নোয়াখালী অফিস
নোয়াখালীতে সিআইডি পুলিশের আদলে তৈরি জ্যাকেট পরে ও ওয়াকিটকি হাতে নিয়ে নিজেদের সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক নারীকে জোরপূর্বক তুলে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে সিআইডি পুলিশের আদলে তৈরী চারটি জ্যাকেট, তিনটি ওয়াকিটকি ও একটি এক্স-নোহা গাড়ি জব্দ করা হয়।
গত বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বসুন্ধরা কলোনির ব্রাইট হাউজে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- লক্ষ্মীপুরের শুভ চৌধুরী ওরফে শহিদুল ইসলাম (৩২), রুবেল হোসেন (২৯), রাজশাহীর মো: জাহাঙ্গীর আলম (২৮), বগুড়ার আবুল কাশেম সোহেল (৩৮), চট্টগ্রামের মো: শাহাদাত হক খান চৌধুরী (২৯), ফেনীর মো: নাদির (২৯) ও ঢাকার মো: শরীফ মিয়া (৫৫)। পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন ওই বাড়ির বাসিন্দা মো: আতাউর রহমান (৬২)। ফোনে তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকজন ব্যক্তি সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে তার বাসায় ঢুকে তার মেয়েকে জোর করে তুলে নেয়ার চেষ্টা করছেন। খবর পেয়ে সুধারাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়।
এ সময় জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কাশেম সোহেল ও শাহাদাত হক খান চৌধুরীকে সিআইডি পুলিশের আদলে তৈরিকৃত জ্যাকেট পরা ও ওয়াকিটকি হাতে থাকা অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়। পরে শুভ চৌধুরী, রুবেল হোসেন ও নাদির এবং শরীফ মিয়াকে গ্রেফতার এবং তাদের ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-৮২৪৫ নম্বরের এক্স-নোহা গাড়িটি জব্দ করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আতাউর রহমানের মেয়ে তাসনীমুল জান্নাত ওরফে মালিহার সাথে শুভ চৌধুরী ওরফে শহিদুল ইসলামের শরিয়া মোতাবেক বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিক বিরোধের জেরে গত ২১ জানুয়ারি তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পুলিশ জানায়, গত ১২ আগস্ট জাহাঙ্গীর, সোহেল ও শাহাদাত সিআইডি পুলিশের আদলে তৈরী পোশাক পরে ও ওয়াকিটকি হাতে আতাউর রহমানের বাসায় প্রবেশ করেন। পরে শুভ, রুবেল ও নাদির সেখানে ঢুকে মালিহাকে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের আটক করেন।


