উচ্চ ভোটার উপস্থিতি আস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হবে : জার্মান রাষ্ট্রদূত

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উচ্চ ভোটার উপস্থিতি জনসাধারণের আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হবে উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ বলেছেন, জার্মানি চায় বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক হোক। নির্বাচনে বাংলাদেশের নাগরিকদের অবশ্যই বাধা ছাড়াই ভোট দিতে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তিপূর্ণ, ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে এবং অবাধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম হতে হবে।

তিনি বলেন, অন্তত ৬০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি একটি যুক্তিসঙ্গত এবং ইতিবাচক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও একই ধরনের মত পোষণ করেন।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতি (ডিকাব) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন। ‘ডিকাব টক’ নামে পরিচিত এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মামুন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিকাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে জার্মানি কি বোঝায় জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে একটি শান্তিপূর্ণ এবং অহিংস প্রচারণার পরিবেশ, শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক মত প্রকাশের সুযোগ এবং এমন একটি প্রক্রিয়া প্রয়োজন যেখানে ভোট সঠিক এবং স্বচ্ছভাবে গণনা করা হবে। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি বড় নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠাবে, যা বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা- উভয়কেই প্রতিফলিত করবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে ২০২৪ সালের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া সংস্কার কর্মসূচির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে উল্লেখ করে রুডিগার লোটজ বলেন, এই সংস্কার প্রক্রিয়া দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জার্মানি এবং অন্যান্য ইউরোপীয় অংশীদাররা বাংলাদেশকে সংস্কারের পথে চলতে উৎসাহিত করবে।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অতীতের ক্ষমতার অপব্যবহারের জবাবদিহিতার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়াগুলো যথাযথ, আইনের শাসনের নীতি এবং আইনগত মানকে সম্মান করে নিতে হবে।

ইউরোপের নির্মিত এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের দিকে ঝুঁকছে। এর প্রভাব বাংলাদেশ-জার্মানির বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর পড়বে কিনা- জানতে চাইলে রুডিগার লোটজ বলেন, অবশ্যই পড়বে। আমরা, অর্থাৎ ইইউ বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদার। আমরা চাই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। ব্যবসায়ে টেকসই সম্পর্ক খুব জরুরি। তিনি বলেন, উড়োজাহাজ কেনার ব্যাপারে বাংলাদেশের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক জীবনে যেমন হয়, প্রতিটি সিদ্ধান্তেরই সামগ্রিক পরিবেশ ও মনোভাবের ওপর কিছু না কিছু প্রভাব পড়ে। দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের সাথে যুক্ত সিদ্ধান্তগুলো আংশিকভাবে এ ধরনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। তাই ইইউতে বাংলাদেশী পণ্যের জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার আলোচনার অগ্রগতি এবং এয়ারবাস নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে ঘিরে সামগ্রিক পরিবেশে প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী জার্মানিতে পড়তে যেতে চায় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, শিক্ষার্থীদের ভিসার বিষয়টি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। আমরা চেষ্টা করছি, কিভাবে ভিসা দেয়ার সময়টাকে কমিয়ে আনা যায়। অপরদিকে, বাংলাদেশী ভিসা প্রার্থীদের কাছেও আমরা সহযোগিতা চাই। আমাদের চাওয়া, ভিসাপ্রত্যাশীরা যাতে সঠিক তথ্য দেন। অনেক সময় তারা জাল কাগজপত্র দেন। যার ফলে আমাদের কনস্যুলার অফিসারদের এসব যাচাই-বাছাই করতে অনেক সময় লেগে যায়। অনেক শিক্ষার্থী আছেন যারা সঠিক কাগজ দেন। কিন্তু যারা জাল কাগজপত্র দেন তাদের কারণে অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন ভিসা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে আসে।