ক্রীড়া প্রতিবেদক যুক্তরাষ্ট্র থেকে
আর্জেন্টিনার নাগরিকদের মতো বাংলাদেশের আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য স্বস্তি। এখনো বিশ্বকাপে টিকে আছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশটি। পরশু কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এখনো শিরোপা ধরে রাখার আশা জিইয়ে রেখেছেন লিওনেল মেসি-এমিলিয়ানো মার্টিনেজরা। টানা দুই বিশ্বকাপ জিতে ইতালি ও ব্রাজিলের সমকক্ষ হতে আর দুই হার্ডল পার হতে হবে লিওনেল স্কালোনির দলকে। অবশ্য ফাইনালে যাওয়ার আগে তাদের সামনে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী বাধা। আটলান্টার মাঠে হ্যারি কেন এবং জুডি বেলিংহামকে আটকিয়ে আর্জেন্টিনা কি পারবে ফাইনালে উঠতে? নকআউট পর্বে যেভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিপক্ষে ধুঁকতে ধুঁকতে এই পর্যন্ত আসা আর্জেন্টিনার, তাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে যে কঠিনতম বিপদে পড়বে এতে কোনো সন্দেহই নেই।
এবারের বিশ্বকাপে ছয়টি করে গোল দিয়েছেন দুই ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহাম। নরওয়ের বিপক্ষে তেমন কিছুই করতে পারেননি হ্যারি কেন। তবে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে ঠিকই খেলায় ফিরিয়ে এরপর ম্যাচও জিতিয়েছেন বেলিংহাম। মূল স্ট্রাইকার না হয়েও স্পেশালিস্ট স্ট্রাইকার হ্যারি কেনের মতো নিজের নামের পাশে ৬ গোল জমা করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার। অন্য দিকে বায়ার্ন মিউনিখে খেলছেন হ্যারি কেন। জার্মান ক্লাবটির হয়ে ৯৪ ম্যাচে ৯৮ গোল করা ফুটবলার হ্যারি কেন। আর ইংলিশ জাতীয় দলে ৮৫ গোল করতে খেলেছেন ১২০ ম্যাচ। এর আগে টটেনহ্যামের জার্সিতে ৩১৭ খেলায় ২১৩ বার বল জালে পাঠিয়েছিলেন।
বেলিংহাম খেলেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে। রিয়াল মাদ্রিদে তিনি ৮৭ ম্যাচে ৩৪ গোল করেছেন। আর জাতীয় দলে তার গোল সংখ্যা ৫৪ ম্যাচে ১২টি। এর মধ্যে এই বিশ্বকাপেই তার গোল ছয়টি। সুতরাং এই ইনফর্ম ফরোয়ার্ডদের আটকাতে না পারলে হাতাশা নিয়েই বাড়ি ফিরতে হবে আর্জেন্টিনাকে।
কেপ ভার্দে বা মিসর দলে এমনকি সুইজারল্যান্ড দলেও হ্যারি কেন বা বেলিংহাম মানের ফরোয়ার্ড ছিল না। মিসরের সালাহ তারকা ফুটবলার। তবে তিনি তার সেরা সময় পার করেছেন। এরপরও এই তিন দলের খেলোয়াড়রা যেভাবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ড এবং রক্ষণভাগকে তছনছ করেছিলেন, সেখানে হ্যারি কেন, বুকায়ো সাকা এবং বেলিংহামদের মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা আর্জেন্টিনার জন্য আরো আতঙ্কই হয়ে আবির্ভূত হবে।
সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো লাল কার্ড পাওয়ার আগ পর্যন্ত যতক্ষণ মাঠে ছিলেন, আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে নাচিয়ে ছেড়েছিলেন। সাথে ডান প্রান্তে আসায়ে এনদোয়েসহ অন্য খেলোয়াড়রা পাত্তাই দেয়নি লিওনেল মেসিদের। ওই লাল কার্ড হওয়ার আগ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার সীমানাতেই বল ঘোরাঘরি করছিল। গোলটি হজমের আগ পর্যন্ত মনে হচ্ছিল এই বুঝি বল যাচ্ছে আর্জেন্টিনার জালে। আবার সমতা আনার পর বলাবলি শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় গোল হজমটা আর্জেন্টিনার জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। তখনই লাল কার্ডের ঘটনায় ব্যাক সিটে ঠেলে দেয় ইউরোপিয়ান দেশটিকে।
সমস্যা হচ্ছে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডে। বিপক্ষ আক্রমণগুলো অঙ্কুরেই বিনাশ করার জন্য রদ্রিগো ডি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। এর চাপই পড়েছে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের রক্ষণভাগে। এতে ফাটল ধরছে রক্ষণ প্রাচীরে। যার ফলে সর্বশেষ ৪ ম্যাচে ৬ গোল হজম। গ্রুপ ম্যাচে জর্ডান প্রথম তাদের জালে বল পাঠায়। এরপর কেপ ভার্দে ২ গোল, মিসর ২ গোল এবং সুইজারল্যান্ড ১ গোল করেছে। এদের ফরোয়ার্ডরা যেভাবে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল আর্জেন্টিনার রক্ষণপ্রাচীরকে, তাতে মনে হচ্ছে আরো বড় বিপদই অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে।



