অস্ট্রেলিয়ার কাছে একই দিনে হারল টাইগার ও টাইগ্রেসরা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

একই দিনে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার ছেলে ও মেয়েদের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের। দুই ম্যাচেরই পরিণতি একই। ছেলেরা কিছুটা লড়াই করলেও নারী বিশ্বকাপে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার কাছে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ২০ জুন পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচ খেলবে টাইগ্রেসরা। এদিকে চট্টগ্রামের মাঠে পুরুষ দলের সামনে ছিল নতুন শুরুর গল্প লেখার সুযোগ! নতুন অধিনায়ক, নতুন সিরিজ, আর প্রতিপক্ষ হিসেবে সদ্য ওয়ানডে সিরিজে হারানো অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ক্রিকেটের ছোট সংস্করণে গল্পটা লেখা হলো ভিন্নভাবে। শুরুতে সম্ভাবনার আলো দেখিয়েও মাঝপথে পথ হারাল বাংলাদেশ। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে টি-২০ সিরিজ অসিরা এগিয়ে গেল ১-তে। আগামীকাল একই ভেনুতে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে উভয় দল।

নারী দল

ইংল্যান্ডের লিডসে নারী টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ৯ উইকেটে। আগে ব্যাট করতে ৮ উইকেটে মাত্র ৭৭ রান করে বাংলাদেশ। ওই রান বলে কয়ে করে অসিরা। মামুলি পুঁজি তারা পেরিয়ে যায় ৬৩ বল আগে। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা বাংলাদেশ দল দ্বিতীয় ম্যাচেই খেলো বড় ধাক্কা।

এ দিন অবশ্য ম্যাচের গতিপথ ঠিক হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংসের মাঝপথেই। অল্প রান করে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করা সম্ভব ছিল না। অল্প রানের লক্ষ্যে আগ্রাসী শুরু করা অস্ট্রেলিয়া একমাত্র উইকেট হারায় পঞ্চম ওভারে। ৩১ রানে মারুফা আক্তারের বলে রিতু মনির দারুণ ক্যাচে পরিণত হন বেথ মুনি। এইটুকুই যা স্বস্তির উপলক্ষ ছিল টাইগ্রেসদের। আরেক ওপেনার জর্জিয়া ভল ও এলিসা পেরি মিলে চার-ছয়ে দ্রুত সারেন কাজ। ৬ চার ও এক ছক্কায় ৩২ বলে ৪৫ করে অপরাজিত ছিলেন জর্জিয়া। পেরি ১৫ বলে অপরাজিত ছিলেন ১৯ রানে।

টস হেরে ব্যাট করতে গিয়ে লিডসের মেঘলা কন্ডিশনে পেসারদের মুভমেন্ট সইতে পারেনি বাংলাদেশ। পরে স্পিনাররাও হানেন ছোবল। অধিনায়ক জ্যোতি আর রিতু মনি ছাড়া সবাই ফেরেন এক অঙ্কের ঘরে।

অষ্টম ওভারে ২৭ রানেই পড়েছিল ৫ উইকেট। পরে ৪৭ বলে ২৭ করে জ্যোতি কিছুটা মান বাঁচান। রিতু করেন ২৬ বলে ১৬। এই দুজনের ইনিংসে অলআউট না হলেও ২০ ওভার খেলেও ৮০ করতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফলে ম্যাচটা অসিরা সহজেই জিতে নেবে- সেই আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল ইনিংস বিরতিতেই।

পুরুষ দল

চোটের কারণে আজ লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বের ভার ওঠে তৌহিদ হৃদয়ের কাঁধে। টস জিতে ব্যাটিং নেয়ার পেছনে ছিল রান তুলে চাপ তৈরি করার ভাবনা। শুরুটাও সেই পরিকল্পনার পক্ষে যাচ্ছিল।

তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান খুব বড় কোনো ঝড় না তুললেও ইনিংসকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন স্বচ্ছন্দে। ওপেনিং জুটিতে আসে ২৬ রান। তানজিদের বিদায়ের পরও খুব বেশি শঙ্কা তৈরি হয়নি। পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ছিল ৫২ রান। টি-২০-এর হিসেবে সেটি ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক সূচনা। কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ঠিক সেখান থেকেই।

সাইফ হাসানের বিদায়ের পর অধিনায়ক হৃদয় ছক্কা দিয়ে ইনিংস শুরু করেও থেমেছেন ৮ রানে। সৌম্য সরকার কিছুক্ষণ ক্রিজে থাকলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। পারভেজ হোসেন ইমন, শামীম হোসেন পাটোয়ারী কিংবা অভিষিক্ত আবদুল গাফফার সাকলাইন-সবার বিদায় এসেছে এমন সময়ে, যখন দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল একটি জুটি। অ্যাডাম জাম্পার গুগলি, ম্যাট রেনশোর নিয়ন্ত্রিত স্পিন আর পেসারদের সঠিক লাইন-লেংথের সামনে ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ফলাফল, ৫২ রানে ২ উইকেট থেকে একসময় ১০০ রানের আগেই হারিয়ে বসে ৮ উইকেট। এমন অবস্থায় মূলত বোলার হিসেবেই পরিচিত অলরাউন্ডার শেখ মাহেদী ব্যাট হাতে দেখান সবচেয়ে বেশি পরিপক্বতা। অন্যরা যখন উইকেট বিলিয়ে ফিরেছেন, তখন তিনি ঝুঁকি ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রেখে ২২ বলে অপরাজিত ২৯ রানের ইনিংসটি খেলেছেন। তার ব্যাটেই ১৩১ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

জবাবে শরিফুল ইসলাম শুরুতেই ফেরান জশ ইংলিসকে। কিছুক্ষণ পর মোস্তাফিজুর রহমান আউট করেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মিচেল মার্শকে। ৩৮ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে সফরকারীরা খানিকটা চাপে পড়েছিল। সেখানেই দৃশ্যপটে কুপার কনোলি। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা এই তরুণ ব্যাটার যেন নিজের ফর্ম চট্টগ্রামেও সাথে করেছেন। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী। বাংলাদেশের স্পিনার ও পেসার-কাউকেই আলাদা গুরুত্ব দেননি। ফাঁকা জায়গা খুঁজে রান নেয়া, সুযোগ পেলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচকে দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান। অভিষিক্ত সাকলাইন তার উইকেট তুলে নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে টিম ডেভিড ও নিখিল চৌধুরীর উইকেটও তুলে নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু ততক্ষণে প্রয়োজনীয় সমীকরণ অনেক সহজ হয়ে যায়। শেষ দিকে ম্যাট রেনশ ও জোয়েল ডেভিস কোনো ঝুঁকি নেননি। ধীরে-সুস্থে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলেছেন তারা। ১০ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া।