২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে অভাবনীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, তার প্রায় দুই বছর পর ২০২৬ সালের এপ্রিলে এসে দেশ এক ভিন্ন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে। রাজপথের সেই উত্তাল দিনগুলোর পর হয়েছে নতুন নির্বাচন, গঠিত হয়েছে নতুন সংসদ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে নতুন সরকার। কিন্তু চব্বিশের এই পরিবর্তনের মূল কারিগর সেই তরুণ প্রজন্ম এখন রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে দেখছে আরো বিশ্লেষণধর্মী সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে।
তারা বলছেন, অভ্যুত্থানের পর প্রণীত ‘জুলাই সনদে’র প্রতিশ্রুতি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘জুলাই আদেশে’র বাস্তবায়ন, জাতীয় নির্বাচনে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় এবং বর্তমান জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা এসব কিছুই এখন একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই দুই বছরে তাদের প্রত্যাশার পারদ যেমন আকাশ ছুঁয়েছে, তেমনি প্রাপ্তির খাতায় হিসাব মেলাতে গিয়ে তৈরি হয়েছে হতাশা ও প্রশ্ন।
জুলাই আদেশ ও সংস্কারের ধীরগতি
অন্তর্বর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে জারি করা ‘জুলাই আদেশ’ এবং অন্যান্য অধ্যাদেশকে দেশের আপামর জনসাধারণ ও তরুণরা একটি নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি হিসেবে দেখেছিলেন। নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাঠামোগত ও আইনি পরিবর্তন, বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার মতো বিষয়গুলো নিয়ে নতুন এক রাজনৈতিক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু বর্তমান নির্বাচিত সংসদে এসব অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে রূপ দেয়ার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের নানামুখী প্রশ্ন ও আইনি জটিলতার অজুহাতে যে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে, তা তরুণদের মধ্যে সুস্পষ্ট হতাশা বাড়াচ্ছে। তারা বলছে, ২০২৪ সালের আন্দোলন কেবল একটি নির্দিষ্ট দলের সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল ঘুণে ধরা রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক রাজনীতির দাবিতে একটি ঐতিহাসিক মোড়।
সেই আন্দোলনের ফসল হিসেবে প্রণীত ‘জুলাই সনদ’ পরবর্তীতে গণভোটে জনরায়ের মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হলেও, নির্বাচনের পর তরুণরা দেখছেন, সেই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের পথে পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির নানা জটিলতা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে আমরা যে সাহসী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্তগুলো দেখেছি, তা আমাদের মধ্যে বড় ধরনের আশার সঞ্চার করেছিল। মনে হয়েছিল, এবার সত্যিই হয়তো কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে। কিন্তু এখন সংসদে এসে যখন দেখি সেই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েন চলছে, কমিটিতে আটকে থাকছে, তখন মনে হয় আমরা কি আবার সেই আগের জায়গাতেই ফিরে যাচ্ছি?’
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী আরিফ বলেন, ‘সংসদে যেকোনো আইন বা অধ্যাদেশ নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা হওয়াটা গণতন্ত্রের জন্য অবশ্যই ভালো লক্ষণ। কিন্তু সেই আলোচনা যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয় এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাস্তব ফল না দেয়, তাহলে সেটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা হয়ে দাঁড়ায়। আমরা তো কেবল কাগুজে আলোচনা চাইনি, আমরা প্রয়োগ চেয়েছিলাম।’
গণভোটের রায় এবং বাস্তবায়নের টানাপড়েন : সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত গণভোট বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় এক অভাবনীয় ও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাষ্ট্রকাঠামোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মৌলিক ইস্যু পরিবর্তনে তরুণ ভোটারদের বিশাল একটি অংশ এসব সংস্কারের পক্ষে জোরালো রায় দিয়েছে।
তবে গণভোটের এই রায় বাস্তবায়ন নিয়ে বর্তমান সংসদে স্পষ্ট মতপার্থক্য ও গড়িমসি দেখা যাচ্ছে। বিরোধী দলগুলো দ্রুত আইন পাসের মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানালেও, সরকারপক্ষ বলছে, বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে এবং আইনি কাঠামোয় আনতে আরো সময় ও নিবিড় পর্যালোচনা প্রয়োজন। সরকারের এই অবস্থানকে অনেক তরুণ জনরায়কে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার বা অস্বীকার করার প্রবণতা হিসেবে দেখছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমাইয়া তাবাসসুম বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ, বিশেষ করে তরুণরা, তাদের মতামত অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে। এখানে অস্পষ্টতার কিছু নেই। এখন সেটি সংবিধানে যুক্ত করতে বা বাস্তবায়ন করতে দেরি হলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হবে যে, সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পুরনো পথেই হাঁটতে চাইছে কি না।
তবে এ বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন ও আইনি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ মাহমুদ। তিনি বলেন, গণভোটের ফল নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেটিকে বাস্তবায়ন করতে হলে সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হয়। তাড়াহুড়া করে কোনো আইন পাস করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সাংবিধানিক সঙ্কট বা আইনি শূন্যতা তৈরি হতে পারে। তাই সময় লাগলেও এটি নির্ভুল হওয়া প্রয়োজন।
সরকারের প্রতি প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি : তরুণদের মূল্যায়ন : নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এই দেড়-দুই বছরে তাদের প্রতি তরুণদের যে পাহাড়সম প্রত্যাশা ছিল, তার কতটুকু পূরণ হয়েছে- এ নিয়ে তরুণসমাজের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রাপ্তির চেয়ে অপ্রাপ্তির পাল্লাই ভারী বলে মনে করছেন তারা।
তরুণদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা ছিল- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে দলীয়করণ সম্পূর্ণ দূর করা হবে। কিন্তু বাস্তবে তারা দেখছেন, মুখের চেনা রূপ বদলালেও অনেক প্রতিষ্ঠানেই পুরনো কায়দায় নতুন রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। দুর্নীতিবাজ ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলা হয়েছিল, তার দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক প্রয়োগ খুব একটা দেখা যায়নি।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ রহমান বলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের প্রধান দাবি ছিল সিন্ডিকেট ভাঙা। সেটি বাজারের সিন্ডিকেট হোক, বা নিয়োগ বাণিজ্যের সিন্ডিকেট। কিন্তু আমরা দেখছি, পুরনো সিন্ডিকেটগুলোর জায়গায় শুধু নতুন মুখ বসেছে। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরকার বলছে তারা চেষ্টা করছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ তো চেষ্টার ফল দেখতে চায়, শুধু আশ্বাস নয়।’
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘একটি বড় প্রাপ্তি হলো, মানুষের মন থেকে গুম-খুন বা বিনাবিচারে আটকে রাখার সেই ভয়টা অনেকটা দূর হয়েছে। মানুষ এখন অন্তত কথা বলতে পারছে। কিন্তু সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যে ঘুষ-দুর্নীতির সংস্কৃতি, তা বিন্দুমাত্র বদলায়নি। আমরা চেয়েছিলাম সিস্টেমেটিক চেঞ্জ, কিন্তু সরকার ব্যস্ত রুটিন ওয়ার্ক নিয়ে।’
তরুণরা মনে করেন, সরকার দুর্নীতি দমনের কথা বললেও চুনোপুঁটিদের ধরা হচ্ছে, কিন্তু বড় বড় রাঘববোয়াল যারা গত এক দশকে দেশের অর্থনীতিকে ফোকলা করে দিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীর। বিচার প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতা তরুণদের হতাশ করছে।
সংসদের কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা : নতুন সংসদের কার্যক্রম নিয়েও তরুণদের পর্যবেক্ষণ বেশ সূক্ষ্ম ও তীক্ষè। প্রথম অধিবেশনে যে ব্যাপক প্রত্যাশা ও উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল, তা পরবর্তী অধিবেশনগুলোতে ক্রমে ম্লান হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। প্রথম অধিবেশনে গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা তুলে ধরা, শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল। এতে তরুণদের মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মেছিল যে, এই সংসদ হবে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিদের কণ্ঠস্বর।
কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয় অধিবেশনে যখন দেশের সবচেয়ে জ্বলন্ত সমস্যাগুলো-যেমন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ভয়াবহ বেকারত্ব, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আটকে থাকা অধ্যাদেশ পাসের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, তখন অনেক ক্ষেত্রেই জনস্বার্থের চেয়ে দলীয় অবস্থান, রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি এবং একে অপরকে দোষারোপ করার পুরনো সংস্কৃতি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তরুণরা বলছেন, এই সংসদের এবং সরকারের সফলতার ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, সড়কপথের অগ্রগতি ,তীব্র চাকরির সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি- এসব বিষয় সংসদে আলোচিত হলেও তার কোনো দৃশ্যমান ও টেকসই সমাধান না পাওয়াকে তারা সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। ২৪-এর আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল কর্মসংস্থান ও কোটা সংস্কার। কিন্তু নতুন সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এখনো কোনো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবিনা আক্তার বলেন, ‘সংসদে যেসব বড় বড় আইন বা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার চেয়ে আমাদের জীবনের সাথে সরাসরি সম্পর্ক আছে চাল, ডাল, তেল আর চাকরির বাজারের। কিন্তু আমরা খুব কম ক্ষেত্রেই দেখি, সংসদের আলোচনা থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণ বা বেকারত্ব দূর করার কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত বা রূপরেখা আসছে। আমাদের পেটে ক্ষুধা থাকলে বড় বড় রাজনৈতিক বক্তব্য কানে ঢোকে না।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ফারহান কবির বলেন, ‘সংসদে বড় বড় রাজনৈতিক ও আদর্শিক আলোচনা হয়, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু একজন সদ্য গ্র্যাজুয়েট হওয়া তরুণের মূল সমস্যা হলো একটা সম্মানজনক চাকরি ও তার পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো। এই বিষয়গুলোতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব সুস্পষ্ট।’
বিরোধী দলের ভূমিকা ও ডিজিটাল স্পেসের স্বাধীনতা : তরুণদের একটি বড় অংশ মনে করছে, সংসদে গঠনমূলক বিতর্কের জায়গা এখনো আশানুরূপভাবে শক্তিশালী হয়নি। সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বিরোধী দলের যে ছায়া সরকারের ভূমিকা পালন করার কথা, সেখানে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, বিরোধী দল সংসদে সরকারের ওপর কেবল ফাঁকা আওয়াজে চাপ তৈরি করছে, কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট ডেটা বা তথ্যভিত্তিক সমালোচনা করতে পারছে না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বিরোধী দল যদি সংসদে থেকে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে, তাহলে সেটি গণতন্ত্রের জন্য আশীর্বাদ। কিন্তু তাদের শুধু সমালোচনা করলেই হবে না, জাতীয় সঙ্কটগুলোতে বিকল্প প্রস্তাবও দিতে হবে। বিরোধী দল হিসেবে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৃঢ়তার বেশ অভাব রয়েছে।’
অন্য দিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সবচেয়ে বড় ও কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সংসদের অধিবেশন, রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য, টকশো সবকিছু এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় রিয়েল-টাইমে বিশ্লেষণ হচ্ছে। ফলে তরুণরা খুব দ্রুত সরাসরি এসব বিষয়ে নিজেদের মতামত গঠন করতে পারছেন।
তবে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে এখনো তরুণদের মধ্যে কিছু উদ্বেগ রয়ে গেছে। নতুন প্রণীত সাইবার আইন নিয়ে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা তরুণদের মধ্যে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পুরনো নিবর্তনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বদলে নতুন যে আইনটি আনা হয়েছে, তাতেও কিছু ফাঁকফোকর রয়ে গেছে, যা দিয়ে ভিন্নমত দমনের সুযোগ রয়েছে বলে তারা মনে করেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিসা আনজুম বলেন, ‘আমরা অবশ্যই চাই সাইবার স্পেসে অপরাধ দমনের জন্য আইন থাকুক, কিন্তু সেটি যেন কোনোভাবেই সরকারের সমালোচনা বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত না করে। ভিন্নমত প্রকাশের নিরাপদ সুযোগ না থাকলে সেটি আবার স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দেবে।’
বিশ্লেষকদের মত : রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের এই পরিবর্তিত, পরিণত ও তথ্যনির্ভর মনোভাব দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তারা বলছেন, তরুণ প্রজন্ম এখন আর অন্ধভাবে কোনো দলকে সমর্থন করে না; তারা প্রতিটি বিষয় তথ্যভিত্তিক এবং বাস্তবধর্মী মূল্যায়ন করছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য- তা সরকারে হোক বা বিরোধী দলে, সব জায়গায় তরুণদের আস্থা অর্জন করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।
২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের তরুণরা রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে বা দূরে সরে যায়নি; বরং তারা আরো অনেক বেশি সচেতন, সক্রিয় ও বিশ্লেষণধর্মী হয়ে উঠেছে। তারা ‘জুলাই আদেশে’র পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, গণভোটের ফলের আইনি প্রতিফলন এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে সংসদের কার্যকর ভূমিকা দেখতে চায়।



