রংপুরে অতিরিক্ত ডিআইজি

জুলাই আন্দোলনে রাষ্ট্রই মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে

Printed Edition

রংপুর ব্যুরো

২৪-এর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে রাষ্ট্রের সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন রংপুরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশে অফিসিয়াল পদমর্যাদা ব্যবহার করে যখন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে কারো অধিকার ক্ষুণœ করা বা প্রাণহানি ঘটানো হয়, তখনই তা রাষ্ট্রীয় মানবাধিকার লঙ্ঘনের রূপ নেয়।

শনিবার রংপুর সার্কিট হাউজে কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ড ও মাসিক ‘আইন ও বিচার’ পত্রিকার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানবাধিকারবিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সংগঠনের রংপুর বিভাগীয় প্রধান মো: আজগার আলীর সভাপতিত্বে কর্মশালাটি উদ্বোধন করেন কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এম এ সোহেল আহমেদ মৃধা।

বক্তব্যে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুর রাজ্জাক সংবিধানের আলোকে অধিকারের সীমানা ব্যাখ্যা করে বলেন, সংবিধানে নাগরিককে মত প্রকাশ ও সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা দেয়া হলেও তা অন্যের অধিকার ক্ষুণœ করার সুযোগ দেয় না। সীমালঙ্ঘন রোধেই রাষ্ট্রকে আইনিভাবে বাধা দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তবে যখন রাষ্ট্র নিজেই নিজ বাহিনীকে দিয়ে বিচারবহির্ভূত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যা চালায়, তখন তা গুরুতর অপরাধে পরিণত হয়।

মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিক, আইনজীবী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সীমান্ত হত্যা বন্ধ, প্রথাগত ব্রিটিশ আইনের সংস্কার, তিস্তা পানি চুক্তি বাস্তবায়ন এবং নারী নির্যাতন ও বাল্যবিয়ে রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেন। কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আইন ও বিচার পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, বাসসের বিভাগীয় প্রতিনিধি মামুন ইসলাম, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক এবং যমুনা টিভির ব্যুরো প্রধান সরকার মাজহারুল মান্নান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আমার দেশের রংপুর ব্যুরো প্রধান বাদশাহ ওসমানী ও মনিরুল ইসলাম।