ক্রীড়া ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় শুরু হয় ইরাক ও ফ্রান্সের ম্যাচ। কিন্তু সেই ম্যাচ শেষ হলো রাত প্রায় ৯টায়! বৈরী আবহাওয়ায় প্রথমার্ধের পর খেলা বন্ধ ছিল দুই ঘণ্টার বেশি। তার আগে-পরে আলো ছড়ালেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্সের জার্সিতে শততম ম্যাচ খেলার উপলক্ষ জোড়া গোল করে রাঙালেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। গোল করেছেন পিএসজি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে। দু’জনের নৈপুণ্যে ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচে ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়েছে দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা।
বাংলাদেশ সময় গত রাত ৩টায় শুরু ম্যাচটি শেষ হয় মঙ্গলবার সকাল ৭টার কাছাকাছি সময়ে শেষ হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো ম্যাচে বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়ল।
প্রথমার্ধে ফ্রান্সের খেলায় ছন্দ না পেলেও ইরাককে চাপ দিতে থাকে ফ্রান্স। ১৪ মিনিটে দর্শনীয় এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন এমবাপ্পে। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বুলেট গতির নিখুঁত শটে ঠিকানা খুঁজে নেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধে আর উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি গতবারের রানার্সআপরা। ম্যাচের আগে থেকেই ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পূর্বাভাস ছিল। প্রথমার্ধে খেলার মাঝেই নামে তুমুল বৃষ্টি।
এই বিশ্বকাপে নিয়ম অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের আট মাইলের মধ্যে বজ্রপাত শনাক্ত হলে, খেলা ৩০ মিনিটের জন্য স্থগিত থাকবে এবং দর্শকদের নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হবে। সেটিই কার্যকর করা হয় প্রথমার্ধের বিরতিতে। স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় দর্শকদের গ্যালারি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। গ্যালারিও প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। বৃষ্টি কমলে আবার ফিরতে শুরু করে দর্শক। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়ায় খেলা শুরু করা যাচ্ছিল না। অবশেষে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় শুরু হয় দ্বিতীয়ার্ধের খেলা।
প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে ৫৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান এমবাপ্পে। বক্সে ইরাকের ডিফেন্ডার আহমেদ কাসেম পাস দেন গোলরক্ষকের উদ্দেশ্যে। বল একটু বেশি জোরে চলে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি আহমেদ বাসিল। উসমান দেম্বেলে নিঃস্বার্থভাবে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপ্পের দিকে, সহজেই জালে পাঠান ফ্রান্সের রেকর্ড স্কোরার। বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ১৬ ম্যাচে ১৬টি গোল হলো এমবাপ্পের। জোড়া গোলের সুবাদে এবারের আসর শুরুর আগে সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোসøাভ ক্লোসার পাশে বসলেন তিনি। এর আগেই ক্লোসাকে ছাড়িয়ে ১৮ গোল নিয়ে এককভাবে রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। ৬৬ মিনিটে পরের গোলে অবদান রাখেন ওলিস। তার পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জালে পাঠান দেম্বেলে। ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপে এসে প্রথম গোলের দেখা পেলেন পিএসজি ফরোয়ার্ড! বাকি সময়ে ব্যবধান আরো বাড়ানোর সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি কেউ।



