মেহের নিউজ
ইরানের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা পরিষদ সচিবালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির বিরুদ্ধে শত্রুতাপূর্ণ আচরণ অব্যাহত থাকলে কঠোর জবাব দেয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে ইরানবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা দেশটির জন্য একটি অলঙ্ঘনীয় রেড লাইন। যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা বৈরী আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটলে ইরান আনুপাতিক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সচিবালয় উল্লেখ করেছে, বৈধ আত্মরক্ষার কাঠামোর আওতায় ইরান কেবল হামলার শিকার হওয়ার পর পাল্টা জবাব দেয়ার অপেক্ষায় বসে থাকবে না। এবার হুমকির সুনির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট লক্ষণ দেখা গেলেই ইরান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্রিম পদক্ষেপ নেবে। এই নিরাপত্তা কৌশল মূলত প্রতিরোধ এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
ট্রাম্পের ‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন’ ক্যাপ নিয়ে বিতর্ক
এদিকে ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক ছবি ঘিরে ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে ট্রাম্প হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে হাতে ধরে আছেন একটি ক্যাপ, যেখানে লেখা রয়েছে ‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন’। ক্যাপটিতে ট্রাম্পের স্বাক্ষরও রয়েছে। এটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের নবম দিনে ছবিটি প্রকাশকে বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ট্রাম্প প্রথম এই সেøাগান ব্যবহার করেছিলেন। তখন তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের শাসকরা যদি দেশকে মহান করতে ব্যর্থ হন তবে ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসবে। এদিকে ইরানে অর্থনৈতিক সঙ্কট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন দেশটির ২৭টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা এখন সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে সেøাগান দিচ্ছে। এরই মধ্যে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ৩৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই বার সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা বা হত্যাকাণ্ড চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার কথাও বলেন তিনি।
কিছুদিন আগেই ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলার মতো বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে যা বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে এই টুপির রাজনীতি নিছক কোনো প্রতীকী বিষয় নয় বরং এটি তেহরানের প্রতি স্পষ্ট বার্তা। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা পেন্টাগনের কর্তা পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইতোমধ্যে গোল্ডেন ফ্লিট নামে নতুন ও শক্তিশালী নৌবহর তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির আরো প্রসারের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই পরিকল্পনা।



