ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলের ১৯৮৬ আসরের কোয়ার্টার ফাইনাল। ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। ইউরোপিয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল ল্যাটিন আমেরিকার দেশটি। আর দু’টি গোলই করেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। চার দশক আগের বিশ্বকাপে যে বলটি দিয়ে দুই গোল হয়েছিল, সেই তুমুল আলোচিত ও সমালোচিত বলটি এবার নিলামে বিক্রি হয়েছে ৩৩ লাখ ডলারে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেদিন প্রথমে ‘হথ্যান্ড অব গড’ হিসেবে পরিচিত গোলটি করেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘গোলটি হয়েছিল ম্যারাডোনার মাথার সামান্য অংশ এবং ঈশ্বরের হাতের একটু ছোঁয়ায়।’ আর্জেন্টাইন প্রয়াত কিংবদন্তির পরের গোলটিও ছিল স্মরণীয়। পাঁচজনকে কাটিয়ে গোলরক্ষক পিটার শিল্টনকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি। সেটিও পরিচিত ছিল ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের হেরিটেজ অকশনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার বীরোচিত ম্যাচের বলটি ৩৩ লাখ ডলারে (২৫ লাখ পাউন্ড) বিক্রি হয়েছে। আশা করা হয়েছিল, এক কোটি ডলার (৭৩ লাখ পাউন্ড) পর্যন্ত উঠবে বলটির মূল্য। নিলামের আগে রয়টার্সকে হেরিটেজের বিশেষজ্ঞ নিলামকারী মাইক প্রোভেনজাল বলেছিলেন, ‘এটি সত্যিকার অর্থেই অনন্য এক স্মারক। তর্কসাপেক্ষে বর্তমানে পৃথিবীতে বিদ্যমান ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।’
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের ওই ম্যাচের রেফারি আলি বিন নাসের ম্যাচ শেষে অ্যাডিডাস আসতেকা বলটি নিয়ে যান। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সেটি নিজের কাছে রেখেছিলেন তিউনিসিয়ার এই রেফারি। বলটি যে ওই ম্যাচে ব্যবহৃত একমাত্র বল ছিল, তা নিশ্চিত করে ২০২৩ সালে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন বিন নাসের। পরবর্তীতে স্বাধীনভাবে করা আরো কিছু যাচাইয়েও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। একই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সিটি ২০২২ সালে নিলামে প্রায় ৯৭ লাখ ডলারে (৭১ লাখ পাউন্ড) বিক্রি হয়েছিল।



