ব্রাজিলের সাথে কি ম্যাচ খেলা হবে বাংলাদেশের

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রতিবেশী দেশ ভারত ফিফা প্রীতিম্যাচ খেলবে ব্রাজিলের সাথে। ৩ অক্টোবর ভারতের সাথে কলকাতার সল্ট লেকে এই ম্যাচ হওয়ার কথা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এই ভারতকেই গত বছর এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ভারত যদি ব্রাজিলের সাথে ম্যাচ খেলতে পারে, তাহলে লাল-সবুজরা কেন নয়। যেখানে ব্রাজিলেও আগ্রহ বাংলাদেশের সাথে ম্যাচ খেলার। সে উদ্দেশেই গত পরশু জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংসের প্র্যাকটিস ভেনু পরিদর্শন করে গেছেন কনফেডারেশন অব ব্রাজিল ফুটবলের (সিবিএফ) প্রতিনিধি দল। ভারতের সাথে ম্যাচের পর এবারের ফিফা উইন্ডোতে দিন অবশিষ্ট থাকছে দুই দিন। অর্থাৎ যদি ব্রাজিলের সাথে বাংলাদেশের ম্যাচ হয়, তাহলে তা ৫ অথবা ৬ অক্টোবর। তবে একটি ফিফা উইন্ডোতে চারটির বেশি ম্যাচ খেলার কোনো সুযোগই নেই। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ অংশ নেবে আসিয়ান কাপে। সেখানে চারটি ম্যাচ। ফলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের জন্য এই উইন্ডোতে ব্রাজিলের সাথে ম্যাচ খেলাটা বলতে গেলে অসম্ভবই। এর পরও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়াল চান বাংলাদেশ ম্যাচটি খেলুক ব্রাজিলের সাথে। তাই তিনি কথা বলবেন ফিফার সাথে। যাতে আসিয়ান কাপের সাথে এই ম্যাচও খেলা যায়। জানান বাফুফে সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন।

আসিয়ান কাপের ফরমেট হলো আট দলের দুই গ্রুপ। প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ, তৃতীয় ও চতুর্থ হওয়া দল একে অপরের সাথে আরেকটি ম্যাচ খেলবে। এতে গ্রুপে তিন ম্যাচের পর আরেকটি ম্যাচ। ফলে চার ম্যাচ খেলা হয়ে যাবে এই উইন্ডোতে। তাই ফিফার নিয়ম ভঙ্গ করে এক উইন্ডোতে পাঁচটি ম্যাচ খেলা বলতে গেলে সম্ভবই নয়। অবশ্য যোগাযোগ ও লবিং অনেক কিছুই সহজ করে দেয়। যেমন এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার লালকার্ড পেলেও লবিংয়ের জোরে বাতিল হয়ে যায় সেই লাল কার্ড।

সাথে ব্রাজিলের মতো দলকে বাংলাদেশে এনে তাদের সাথে ম্যাচ খেলার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের ব্যাপার আছে। ২০১১ সালে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচের জন্য ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছিল বাফুফেকে। এরপর ২০২২-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে আনার চেষ্টা করা হলেও তখন চাওয়া হয়েছিল ১০০ কোটি টাকা। তাই ব্রাজিলের সাথে ম্যাচটি খেলতে হলে কোটি কোটি টাকাও জোগাড় করতে হবে বাফুফেকে। শাহীনের মতে, ‘ভালো কোনো উদ্যোগের জন্য অর্থ তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের সভাপতি নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেবেন। ক্রীড়ামন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা নেয়া হবে। এ রকম ম্যাচ করতে হলে সরকারের সহায়তা নিয়েই করতে হবে।’

ব্্রাজিলের এই ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে জাতীয় স্টেডিয়াম ও কিংস এরিনার প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড দেখে ব্রাজিল প্রতিনিধি দলের সন্তুষ্টি। তবে ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল জোনের সাথে, খেলোয়াড়দের স্টেডিয়ামে প্রবেশ ও বের হওয়ার গেটের নিরাপত্তা আরো বাড়াতে হবে। ব্রাজিলিয়ান প্রতিনিধিদের মতে, এই সমস্যা দ্রুতই সমধান করা সম্ভব। তারা দেশে ফিরে গেছেন পরশু রাতেই। এরপর তারা ব্রাজিল কনফেডারেশনে রিপোর্ট দেবেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্রাজিলিয়ান কর্তৃপক্ষ সবুজ সঙ্কেত দিলেই ম্যাচটি হওয়ার সম্ভাবনা।

বাফুফের বর্তমান কমিটি জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠ উন্নয়নে প্রচুর সময় দিয়েছে। উন্নত জাতের ঘাস লাগানো হয়েছে। লিওনেল মেসি, ডি মারিয়া এবং সার্জিও অ্যাগুয়েরোরা ২০১১ সালে যে মাঠের যে ঘাসে খেলে গেছেন, এখন ঘাস পুরোপুরি ভিন্ন। অনেক উন্নত পরিবেশ এখন।

এবার বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ এবং কাছের শহর কোলকাতায় ম্যাচ। সেই আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম পাড় থেকে এসে ভারতে ম্যাচ খেলবে। তাই এই সুযোগে বাংলাদেশের বিপক্ষেও ম্যাচ খেলার চান্স নিচ্ছে ব্রাজিল। তবে এবার না হলেও ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ব্রাজিল ম্যাচ হওয়ার রাস্তা প্রশস্ত করা এবং নিরপেক্ষ ভেনু হিসেবে ব্রাজিল এই মাঠ যাতে ব্যবহার করতে পারে, সেই সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হবে। বাফুফে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দ্রুতই বাফুফে এ বিষয়ে কনফেডারেশন অব ব্রাজিল ফুটবলের (সিবিএফ) সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবে।