ইবতেদায়ি শিক্ষকদের হুঁশিয়ারি

অনশনে শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায় শিক্ষা উপদেষ্টার

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা। তাদের এই অনশনে কোনো শিক্ষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দায় শিক্ষা উপদেষ্টাকে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তারা।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোট আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে এ অনশন শুরু করেন শিক্ষকরা। তারা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।

এর আগে গত ৫ নভেম্বর ইবতেদায়ি শিক্ষকরা জানান, ১১ নভেম্বর দুপুর ১২টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে বেলা ১টা থেকে অর্ধবেলা অনশন কর্মসূচি পালন করবেন। পরদিন ১২ নভেম্বর থেকে লাগাতার অনশন শুরু করবেন। তবে সরকারের সাথে আলোচনা ব্যর্থ হওয়াসহ নানা কারণে গত রোববার থেকেই তারা অনশন শুরু করেন। টানা ২৯ দিন ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিস্থলেই তারা অনশন শুরু করেন। প্রথম দিনে রোববার বিকেলে পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। তবে তারা ফুটপাথে অবস্থান ও অনশন অব্যাহত রেখেছেন।

সম্প্রতি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এক হাজার ৮৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাকে এমপিওভুক্তের সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ-সংক্রান্ত ফাইলে প্রধান উপদেষ্টা সইও করেছেন। শর্তসাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আন্দোলনকারীরা বলেন, অনুদানভুক্ত ও অনুদানবিহীন সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের স্বীকৃতি পায়। সরকারি বিধি অনুযায়ী ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৯৯৪ সালে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাথে সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা অনুদানভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র এক হাজার ৫১৯টি অনুদানভুক্ত হয়। সেই থেকে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোর সাথে যে বৈষম্য হচ্ছে তা বর্তমানেও চলমান। বৈষম্য নিরসনে অনুদানবিহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো এমপিওর গণবিজ্ঞপ্তি জারির জোর দাবি জানাচ্ছি।