ঠিকাদার-এলজিইডির গাফিলতি, ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ ফেরত

Printed Edition

সাজ্জাতুল ইসলাম নান্দাইল (ময়মনসিংহ)

ঠিকাদারদের চরম অবহেলা এবং নির্মাণকাজ তদারকিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের পাঁচ কোটি ২২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত গেছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয়নি।

নান্দাইল উপজেলা এলজিইডির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে প্রাথমিক শিা উন্নয়ন প্রকল্পের (পিইডিপি) আওতায় উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণে দুই কোটি ৯ লাখ টাকা, ১৬টি বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ৫৮ লাখ টাকা এবং ৩৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিকের পৃথক ক নির্মাণে দুই কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০২৪ সালের মধ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও অধিকাংশের কাজই শেষ হয়নি।

সরেজমিন চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের কুরাটি, জাহাঙ্গীরপুর বালিয়াপুকুর, দেউলডাংরা, হরিপুর, কান্দাপাড়া ও পুরহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কোথাও শুধু মাটির ওপর পিলার তুলে ফেলে রাখা হয়েছে, কোথাও ভবনের প্লাস্টার অসম্পূর্ণ, আবার কোথাও সীমানা প্রাচীর অর্ধেক অবস্থায় বন্ধ রয়েছে। কোনো কোনো প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি ২০ শতাংশেরও কম। বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ােভ তৈরি হয়েছে। তারা এ ঘটনার তদন্ত করে অবহেলাকারী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ থমকে থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নির্মাণসামগ্রীর কারণে শিশুদের নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ছে এবং পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের দাবি, শুরুতে যথাযথ তদারকি থাকলে ঠিকাদাররা এভাবে কাজ ফেলে রাখার সুযোগ পেতেন না। অনেক ঠিকাদার অল্প কিছু কাজ করে কাজ বন্ধ রাখেন এবং পরবর্তী সময়ে আবেদনের মাধ্যমে সময় বাড়িয়ে নেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বারবার সময় বাড়ানো হলেও বাস্তবে কাজ এগোয়নি।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াল বলেন, ঠিকাদারদের আবেদনের পরিপ্রেেিত একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানো হলেও তারা কাজ শেষ করতে পারেননি। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় বরাদ্দের অর্থ কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পুনরায় বরাদ্দ পেলে অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।