আমিনুল ইসলাম
মাদকবিরোধী অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করতে নানামুখী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিজেদের অনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চক্রগুলো টার্গেট করছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের। মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে দুর্বল করতে আগে অভিযানের বিরুদ্ধে মামলা করা হতো। কিন্তু সম্প্রতি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক কর্মকর্তা।
তারা বলছেন, সম্প্রতি একাধিক মাদক মামলার আসামিকে দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হচ্ছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে শাস্তি পেতে অসুবিধা নেই। কিন্তু কাজে বাধা দিতে ও হয়রানি করতে মিথ্যা তথ্যে অভিযোগ দেয়া হচ্ছে।
জানা যায়, গত ২২ জুলাই আবুল খায়ের মজুমদার নামে এক ব্যক্তি জাল মেডিক্যাল সার্টিফিকেট, ভুয়া এনআইডি ব্যবহার করে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৬ জুলাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো উত্তর তেজগাঁও কার্যালয়ে আটকে তাকে মারধর করা হয়েছে। অথচ আবুল খায়ের নিজেই একাধিক মামলার আসামি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মুগদা থানার মামলা নং ৫৮(০৭)২০১২, আদাবর থানার মামলা নং ০৫ (০৪)২০১৩। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কর্তৃক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত সীতাকুণ্ড থানার ১৫(০৭) ২০২৩ নম্বর মামলার আসামি। শুধু তা-ই নয়, গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তার কাছ থেকে একাধিকবার ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
সুত্র জানায়, সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ঢাকা মেডিক্যালের সার্টিফিকেটটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে চিঠি দিলে সেখান থেকে ফিরতি চিঠিতে জানানো হয় ‘অভিযোগকারী আবুল খায়ের মজুমদারের মেডিক্যাল সার্টিফিকেটটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে প্রদান করা হয়নি’। মেডিক্যাল সূত্র আরো জানায়, জুলাই মাসের ৬ তারিখে রোগী ভর্তি রেজিস্টারে আবুল খায়ের মজুমদারের নামও নেই। যে চিকিৎসকের নাম ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও ভুয়া। তা ছাড়া ঘটনার দিন তেজগাঁও কার্যালয়ে আবুল খায়েরের প্রবেশের কোনো প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজে নেই। অথচ কয়েকজন কর্মকর্তাকে হেনস্তা করতেই কোনো কুচক্রি মহলের প্ররোচনায় তিনি অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ জানান, একটি অসাধু চক্র কর্মকর্তাদের সুনাম নষ্ট করতে একজন মাদক কারবারিকে দিয়ে আদালতে একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন, যাতে ওই কর্মকর্তারা বদলি হয়ে গেলে চক্রের অবৈধ কার্যক্রমে কোনো বাধা না অসে। এটি মাদকের বিরুদ্ধে অধিদফতরের কার্যক্রমকে ব্যাহত করার একটি অপচেষ্টা। তিনি বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। কর্মকর্তারা অপরাধ করলে অবশ্যই তার বিচার হবে। তবে অবৈধ স্বার্থ হাসিল করতে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করা দুরভিসন্ধিমূলক। অপর এক কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ক্ষুণœ হওয়ার পাশাপাশি সোর্স নিয়ে কাজ করার েেত্রও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানতে চাইলে আবুল খায়ের মজুমদার নয়া দিগন্তকে বলেন, তিনি যে অভিযোগ দিয়েছেন তার সবই সত্য। জাল মেডিক্যাল সনদ ও সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার অস্তিত্ব না থাকার বিষয়ে তিনি তেমন কিছু বলতে পারেননি। তবে তাকে হুমকি না দিয়ে সুন্দরভাবে কথা বললে তিনি আদালতে না গিয়ে মীমাংসায় যেতেন বলে দাবি করেন।



