তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার (জামালগঞ্জ) সড়কের দুই পাশের প্রায় চার হাজার গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। একসাথে সবগুলো গাছ কাটার ফলে সড়কের ক্ষতির ও পরিবশে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কের পাশ থেকে এসব গাছ কাটার প্রতিবাদে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’।
গতকল শনিবার সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বন বিভাগের কথিত সিন্ডিকেট ভেঙে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি মো: মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল মুন্সী, মিডিয়া-বিষয়ক সম্পাদক এম ডি জাকারিয়া, ছাতক উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব সুজন তালুকদার, দোয়ারাবাজার উপজেলার সদস্য মোফাজ্জল হাসান, সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগী প্রতিনিধি ও স্থানীয় পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানিয়েছে যে সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে বর্তমানে কোনো সম্প্রসারণ বা উন্নয়ন প্রকল্প চলমান নেই। অথচ উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বন বিভাগ ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ কেটে ফেলেছে। সওজের বক্তব্য ও বন বিভাগের কর্মকাণ্ডের মধ্যে অসঙ্গতি থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেন তারা।
সমাবেশ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করে সংগঠনটি। দাবিগুলো হলো- সড়কে চলমান সব ধরনের গাছ কাটা অবিলম্বে বন্ধ করা, সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের প্রাপ্য লভ্যাংশ যথাযথভাবে প্রদান, গাছ কাটার সাথে জড়িত বন বিভাগ, সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধভাবে গাছ বিক্রির পরিকল্পনা ও বৃক্ষনিধনে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেয়া। পাশাপাশি ইতোমধ্যে কেটে ফেলা গাছের ক্ষতিপূরণ হিসেবে একই সড়কে দ্বিগুণ সামাজিক বনায়নের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাছ কাটা বন্ধ না হলে হাওর অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে এ বিষয়ে বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। জানা যায়, বিগত প্রায় ২০ বছর আগে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার টুকের বাজার থেকে জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কের ১৯ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ২০ হাজার গাছ লাগানো হয়েছিল।
সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতাধীন এসব গাছের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা বলে প্রায় তিন হাজার গাছ কাটার জন্য ২০২৪ সালে প্রথমার্ধে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করে বন বিভাগ। গাছগুলোর বাকল কেটে লাল কালিতে নম্বর দিয়ে কাটার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল। স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীদের তীব্র প্রতিবাদ ও মানববন্ধনের মুখে সে সময় (২০২৪ সালের মার্চ-এপ্রিল নাগাদ) পরিবেশ রক্ষায় সড়কে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
জনরোষ ও প্রতিবাদের মুখে বন বিভাগ গাছ কর্তনের সেই টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়, যার ফলে সাময়িকভাবে গাছগুলো রক্ষা পায়। কিন্তু চলতি বছর সেই গাছগুলো কেটে ফেলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন এলাকাবাসী।



