বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি বেন্ডান লিঞ্চ আজ আসছেন

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আজ মঙ্গলবার ঢাকা সফরে আসছে। তিনি আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করবেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করা নিয়ে আলোচনা করতে এই সফরে আসছে প্রতিনিধিদলটি। গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র পূর্ণিমা রাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়নে অংশীদারিত্ব প্রত্যাশা করে যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির ফলে উভয় দেশের পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ হবে। সেই সাথে বিনিয়োগের বাধা দূর করে বাণিজ্যিক সুযোগ বৃদ্ধি করবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গতি আনবে।’

জানা গেছে, ব্রেন্ডান লিঞ্চ ঢাকা অবস্থানকালে বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আলোচনা করবেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড-এআরটি) সই হয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে ১৩১টি শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রকে মাত্র ৬টি শর্ত মানতে হবে।

এই চুক্তি নিয়ে দেশে নানা ধরনের সমালোচনা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এই চুক্তি বাতিলের দাবি করেছে। অর্থনীতিবিদরাও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য সমাধানের কথা বলেছেন। চুক্তিটি এখনো কার্যকর হয়নি। তবে এরই মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নানা পণ্য কেনার চুক্তি করছে। এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অনেক রাজনৈতিক নেতা ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ এমন এক নীতিগত বাধ্যবাধকতার মধ্যে ঢুকে পড়তে পারে, যেখানে দেশের স্বার্থে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হয়ে যাবে। তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশ যদি ভবিষ্যতে চীন, রাশিয়া বা অন্য কোনো দেশের সাথে বাণিজ্যিক, প্রযুক্তিগত বা প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত চুক্তি করতে চায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি বা নিরাপত্তাজনিত ব্যাখ্যা সেই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের শর্ত যদি সত্যিই কার্যকর থাকে, তাহলে তা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী ক্ষমতার সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

এই চুক্তি নিয়ে দেশে নানা ধরনের সমালোচনা হচ্ছে। জাতীয় সংসদে এই চুক্তি বাতিল চেয়েছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন থেকেও চুক্তি বাতিলের দাবি উঠেছে। অর্থনীতিবিদরাও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য সমাধানের কথা বলেছেন। চুক্তিটি এখনো কার্যকর হয়নি। তবে এরই মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নানা পণ্য কেনার চুক্তি করছে। এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে বেশি দাম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন তেল, গম, এলএনজি কিনতে হচ্ছে।