কথা রেখেছেন জ্যোতিরা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেছিলেন বিশ্বকাপে অন্তত দু’টি ম্যাচ জিততে চান তারা। স্পষ্ট করেই বলেছিলেন নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তানকে হারাতে চান। তারপর দল হিসেবে খেলে আরো দুই-একটি জয় চান। কথা রেখেছেন জ্যোতি, কথা রেখেছেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল।

ডাচদের হারিয়ে এবারের নারী টি-২০ বিশ্বকাপ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মোটেই সুবিধা করতে পারেননি নিগার সুলতানারা। হার ৯ উইকেটে। তৃতীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে আবারো জয়ের ধারায় ফিরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তিন ম্যাচে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় জয়। ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ আছে তিনে। ছয় দলের গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে উঠবে দু’টি দল। শেষ দুই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৫ জুন মথ্যানচেস্টারে ভারতের বিপক্ষে এবং ২৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে টাইগ্রেসরা। লর্ডসে সেদিন প্রথমবারের মতো খেলবে বাংলাদেশেল নারীরা।

সাউদাম্পটনে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ২২ বলে অপরাজিত ৩৯ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ৬ উইকেটে ১২৩ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু পেয়েও সানজিদা আক্তার ও নাহিদা আক্তারদের স্পিন তোপে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০০ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা অবশ্য ছিল হতাশাজনক। পঞ্চম ওভারে দলীয় ১৩ রানের মধ্যেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারায় তারা। চতুর্থ উইকেটে সোবহানা মোস্তারির (২২) সাথে ৩৫ রানের জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা। পরে তিনিও ৩৮ বলে ৩৬ রান করে আউট হন। মাঝপথে ফেরেন রিতু মনি (৭)। তাতে একসময় বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ এক শ’ পার হওয়া নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়। তবে শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সেই শঙ্কা কাটে। সপ্তম উইকেটে রাবেয়া খানের (৪*) সাথে অবিচ্ছেদ্য ৩১ রানের জুটি গড়ে দলকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেন তিনি।

১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তান শুরুটা ভালোই করেছিল। ওপেনিং জুটিতে আসে ৪৯ রান। তবে বাঁ হাতি স্পিনার নাহিদা এই জুটি ভাঙার পর দ্রুত ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এরপর বাংলাদেশী বোলারদের চাপে ধসে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং বিভাগ। নাহিদা ১৮ রানে তিনটি এবং সানজিদা ২১ রানে তিনটি উইকেট নেন। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০০ উইকেট নেয়ার অনন্য কীর্তি করেন নাহিদা।