এএফপি
সুদানের আল-ওবেইদ শহরে চলমান মানবিক বিপর্যয় নিয়ে গতকাল শুক্রবার ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছেন জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। জাতিসঙ্ঘ আশঙ্কা করছে, শহরটিতে আধাসামরিক বাহিনীর বড় ধরনের হামলা আসন্ন।
জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদের জরুরি বৈঠকে তুর্ক বিশ্বনেতাদের এল-ওবেইদে সম্ভাব্য নৃশংসতা ঠেকাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আল-ওবেইদের পরিস্থিতি স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। সুদানে আরেকটি মানবাধিকার বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে। এবার সেটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উত্তর কর্দোফান রাজ্যের রাজধানীতে।’
তিনি বলেন, ‘১৮ মাস ধরে বেসামরিক মানুষ অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে রয়েছে। সুদানের সশস্ত্রবাহিনী এবং র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) শহরের আশপাশের এলাকা দখলের লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় তারা একের পর এক ড্রোন হামলার শিকার হচ্ছে।’
তুর্ক বলেন, ‘এটি কোনো মহড়া নয়। এটি এমন একটি রেড অ্যালার্ট, যা বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের টেবিলে পৌঁছানো প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘আগামী কয়েক দিন ও সপ্তাহে তাদের ফোনে আল-ওবেইদ এবং কর্দোফানের অন্যান্য এলাকায় নৃশংস অপরাধ কীভাবে ঠেকানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলা উচিত।’ ব্রিটেনের অনুরোধে কয়েকটি দেশের পক্ষে জাতিসঙ্ঘের সর্বোচ্চ মানবাধিকার সংস্থা এল-ওবেইদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিরল এ জরুরি সভার আয়োজন করে। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে সঙ্ঘাত শুরু হয়। তেলের মজুদ এবং আরএসএফের সবচেয়ে শক্তিশালী আধাসামরিক মিত্রদের অবস্থানের কারণে কর্দোফান অঞ্চল এখনো সঙ্ঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। উত্তর কর্দোফান রাজ্যের রাজধানী এল-ওবেইদ পশ্চিমাঞ্চলের দারফুরে আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং পূর্বাঞ্চলের সেনানিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের মধ্যে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ পথের ওপর অবস্থিত। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের এ শহরে গৃহযুদ্ধে বাস্তুচ্যুত প্রায় এক লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শহরটি আরএসএফের সবচেয়ে তীব্র হামলার মুখে পড়েছে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ অবরোধ ভাঙতে সক্ষম হলেও পরে শহর এবং শহর থেকে বের হওয়ার প্রধান মহাসড়কে ড্রোন হামলা চালিয়ে আরএসএফ আবার অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে। সেনাবাহিনী তা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে। সাম্প্রতিক হামলায় প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকা অন্ধকারে ডুবে গেছে এবং পানির পাম্পগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। এ জরুরি বৈঠকে অংশ নেয়া ইউরোপীয় দেশগুলো ৪৭ সদস্যের মানবাধিকার পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপনের পরিকল্পনা করছে।



