আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা

চিন্ময়সহ ৩৯ আসামির বিচার শুরু

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের আলোচিত অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় ইসকন সন্ত্রাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো: জাহিদুল হক আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

এর মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলাটির বিচার কার্যক্রম শুরু হল। একইসঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আকস্মিকভাবে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করে লাইমলাইটে আসা চিন্ময় প্রথম কোনো মামলার বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো: রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩০২, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় আনা অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বাদিপক্ষের আইনজীবী কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ বলেন, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি মামলার বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত। আসামিদের অব্যাহতির আবেদন শুনানি শেষে নামঞ্জুর করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর এ আদেশ আদালত দিয়েছেন।

এর আগে, সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে চিন্ময়সহ ২৩ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মিলিয়ে শতাধিক সদস্য আদালত প্রাঙ্গণে মোতায়েন করা হয়।

নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায়। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর তিনি নির্মমভাবে খুন হন।

চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে ঢাকার শাহজালাল (রহ:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসকন সন্ত্রাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে পাঠানোর নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে ত্রাস সৃষ্টি করে চিন্ময়ের অনুসারীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা তাকে বহনকারী প্রিজন ভ্যান আদালত এলাকায় আটকে রাখে তারা। একপর্যায়ে পুলিশ ও বিজিবির উপর হামলা চালায়। তারা পাশের মসজিদ ও নানা স্থাপনা ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে আদালত প্রাঙ্গণের অদূরে নগরীর বান্ডেল সেবক কলোনির সামনে ধরে নিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন নগরীর কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিরা সবাই চিন্ময়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

তবে জামাল উদ্দিনের করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নাম ছিল না। ২০২৫ সালের ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়ার তথ্য উল্লেখ করে চিন্ময়কে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

চিন্ময় বাদে অন্য আসামিরা হলেন- চন্দন দাস মেথর, রিপন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাস, আমান দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাস, ওমকার দাস, বিশাল, লালা দাস, সামীর, সোহেল দাশ রানা, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাস, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস, দ্বীপ দাস ও সুকান্ত দত্ত।

মামলার ৩৯ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন এখনো পলাতক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা আছে। অভিযোগপত্রে আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতাকারী ও উসকানিদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, অন্য আসামিরা তার নির্দেশ ও প্ররোচনায় সঙ্ঘবদ্ধভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে।