প্রকাশ্য সমঝোতা না থাকলেও বিএনপির সাথে নীরব সমীকরণের আভাস!

রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল
Printed Edition

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দলটির নেতাকর্মীদের সেভাবে স্বোচ্চার দেখা না গেলেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়ার চেষ্টা করছে তারা। গত তিন মাসে রাজধানীতে একাধিকস্থানে মিছিল করার চেষ্টা করেছে দলটি। নির্বাচনের পরদিন থেকে আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলায় দলীয় কার্যালয় খুলে দোয়া-মুনাজাত, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ব্যানার টানানো ও স্লোগান অব্যাহত রেখেছে দলটির নেতাকর্মীরা। বিরোধী পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, সরকারি দল বিএনপির ছত্রছায়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দল আওয়ামী লীগ মিছিল করার সাহস পাচ্ছে। যদিও সরকারি দল বলছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার প্রশ্নই আসে না। যেখানেই তাদের কাযক্রম দেখা যাচ্ছে, সেখানেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে। সরকার বলছে, কোনো অবস্থাতেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেয়া হবে না। আইনিভাবে তাদের মোকাবেলা করা হবে। তবে আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পালিয়ে থাকা অনেক নেতাই এলাকায় ফিরছেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আঞ্চলিক কূটনীতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে- কোনো বিদেশী চাপ, বিশেষ করে ভারতের দিক থেকে, এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে কি না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো ধরনের বাইরের চাপের কাছে নতি স্বীকার করার প্রশ্নই আসে না। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কেবল দেশের সংবিধান, আইন ও জনগণের স্বার্থের ভিত্তিতেই নেয়া হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও রাজধানীসহ তৃণমূল পর্যায়ে এ ধরনের উপস্থিতি কেবল সাংগঠনিক বার্তা নয় বরং জাতীয় রাজনীতিতে পুনরায় জায়গা করে নেয়ার কৌশলগত প্রচেষ্টার অংশ। একই সাথে নির্বাচনের আগে গণভোটে বিএনপির তৃণমূলের ‘না’ ক্যাম্পেইন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেয়া, গণভোট ও জুলাই সনদের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য ও অবস্থান, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের উত্থান ঠেকাতে আওয়ামী লীগের সাথে সরকারি দলের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে বলেও মনে করছেন অনেকে।

সূত্র মতে, নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ছাড়াও পটুয়াখালীর দশমিনা, বরগুনার বেতাগী, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, শরীয়তপুর, বগুড়া, পঞ্চগড়, হবিগঞ্জ, খুলনা, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রাম, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নোয়াখালীসহ সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিত হতে দেখা গেছে। কোথাও তালা ভেঙে প্রবেশ, কোথাও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আবার কোথাও ব্যানার টাঙিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত তিন মাসেও এটা অব্যাহত রয়েছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব কর্মসূচি ছিল স্বল্পসময়ের। কিছু কিছু জায়গায় আওয়ামী লীগের এ ধরনের তৎপরতার মুখে স্থানীয় সরকার সমর্থিত নেতাকর্মীদের বাধা, ভাঙচুর বা পুনরায় তালা ঝুলিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে না। বরং বিএনপির হাইকমান্ডকে নির্বাচনের আগে থেকেই আওয়ামী লীগের প্রশ্নে তুলনামূলক কৌশলী ও নমনীয় অবস্থান নিয়ে আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতি বিএনপি সরকারের নমনীয় মনোভাব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। সরকার গঠনের পর বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, ইসলামী দলগুলোর উত্থান বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে মোকাবেলা করতে হলে আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি রাজনৈতিক মাঠের বাইরে ঠেলে দেয়া কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক নাও হতে পারে। ফলে মাঠপর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক সহনশীলতার একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ ও সংস্কার ইস্যুতে দুই দলের অবস্থান প্রায় একই বিন্দুতে এসে ঠেকেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বর্তমান সংসদে বিরোধী দলগুলোর সাথে বিএনপির যে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেয়া ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রশ্ন। এ নিয়ে বিরোধীরা রাজপথে আন্দোলনও করছে। তারা জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সরকারকে তারা কোনো ছাড় দিতে নারাজ।

অন্য দিকে বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। দলটির নেতাদের অনানুষ্ঠানিক বক্তব্যে শোনা যাচ্ছে, জুলাই সনদ কার্যকর হলে তাদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অবস্থান আরো দুর্বল হতে পারে। ফলে এই ইস্যুতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে নীরব সমঝোতার একটি ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে, এমন ধারণা রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হচ্ছে। নির্বাচনের আগে গণভোট ইস্যুতে আওয়ামী লীগ ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় ছিল। যদিও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সরাসরি কোনো অবস্থান নেয়নি, তবু তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালান। সে সময় থেকেই দুই দলের মধ্যে দূরত্ব কিছুটা কমতে শুরু করে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এ দিকে মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আবার প্রকাশ্যে আসতে শুরু করায় স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কোথাও তারা সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি পালন করে দ্রুত সরে যাচ্ছেন। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই এলাকায় ফিরে আসছে। তাদের অনেকেই ফেসবুকসহ সামাজিক যোাগযোগ মাধ্যমে ‘মায়ের কাছে ফিরছি’ বলে স্ট্যাটাসও দিচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয়ভাবে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে আপোস করেই তারা এলাকায় ফিরছে। এক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও শোনা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, সামষ্টিক অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে সরকারের উচিত হবে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া। কারণ আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময়ে বারবার নিষিদ্ধ হয়েছে। সব বাধাবিপত্তি মোকাবেলা করে রাজনীতিতে টিকে থেকেছে। এখনো বৈরী পরিস্থিতি মোকাবেলা করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, ভবিষ্যতেও চলবে।

এ বিষয়ে পলাতক থাকা দলটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমে বলেছেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল। কোনো আইন করে আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখা যাবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ এখন সরাসরি বড় কর্মসূচির বদলে ‘উপস্থিতি জানানোর’ কৌশল নিয়েছে। প্রথমে তারা এলাকায় অবস্থান নেবে। তারপর ছোট ছোট প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সংগঠনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কাজ শুরু করবে। একই সাথে তারা দেখবে বিএনপির প্রতিক্রিয়া কতটা কঠোর বা সহনশীল হয়। এই প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতের কৌশল ঠিক করবে তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের এমন রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া নিয়ে বিএনপির ভেতরে ভিন্ন মত রয়েছে। একটি অংশ মনে করছে, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক পরিসরে ফিরতে দিলে ভবিষ্যতে তা বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। আবার ভারতপন্থী আরেকটি অংশের যুক্তি, বহুদলীয় গণতন্ত্রে একটি বড় দলকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রীয় রাখা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে এবং এতে তৃতীয় শক্তি লাভবান হতে পারে। এই অংশটি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনের আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারের কথা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে। সেখানে তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণ চাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানরাও রাজনীতিতে ফিরতে পারেন।’

সূত্র মতে, এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক মহল কেবল ব্যক্তিগত মন্তব্য হিসেবে দেখছে না বরং এটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরুঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেন গণ-অভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, ‘আমি সবসময়ই উন্মুক্ত। আমি এমন একজন মানুষ, যে সবসময় আলোচনায় বিশ্বাস করে, তা যত কঠিনই হোক বা যার সাথেই হোক। এটাই আমার কৌশল, জীবনে সবসময়ই এভাবেই চলেছি।’ বিএনপির বিপুল বিজয়ের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমাধান হবে।’

সূত্র মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ ছিল, গণ-অভ্যুত্থানে ঠেকাতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা চালানো হয়। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন এবং সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় কার্যকর নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও রাজনীতিতে ফেরার প্রশ্নটি অনেকাংশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্ভর করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্য সমঝোতা না থাকলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একটি নীরব সমীকরণের আভাস মিলছে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে সাংগঠনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও জাতীয় রাজনীতির পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারি বলেন, আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে দেশকে স্থিতিশীল করা কঠিন। আবার তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিলে জামায়াত-এনসিপি মেনে নেবে না। তাহলে বিএনপি কী করতে পারে, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিচার করতে হবে। তাহলে হয়তো ধীরে ধীরে তারা আসতে পারে। কিন্তু হঠাৎ করে যদি তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেয়া হয়, তবে তা বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান নয়া দিগন্তকে বলেন, এই মুহূত্বে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে। তারা যদি কোনো কার্যক্রম চালায়, তাহলে সরকারের উচিত হবে ব্যবস্থা নেয়া।