- সড়কে নেই চিরচেনা যানজট, কর্মচাঞ্চল্য
- ফেরার পথেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
- আরো ৩ দিনের ছুটি থাকায় ফিরছেন না অনেকে
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি শেষে ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরী ঢাকা আবার তার চিরচেনা রূপে ফিরতে শুরু করেছে। প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে নাড়ির টান ছিঁড়ে জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ। তবে এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি নগরজীবনের কোলাহল; রাজধানীর সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা থাকায় নগরবাসী দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের সাত দিনের ছুটি শেষে গতকাল মঙ্গলবার ছিল প্রথম কর্মদিবস। সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলেছে। সচিবালয়সহ মতিঝিল ও কাওরানবাজার এলাকায় কর্মজীবী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে অফিসপাড়া। দীর্ঘ ছুটির আলসেমি কাটিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরছেন নগরবাসী। তবে কর্মজীবী মানুষের ফেরা শুরু হলেও ঢাকা এখনো অনেকটাই ফাঁকা। নগরজীবনে ফেরেনি স্বাভাবিক গতি। বিভিন্ন সড়ক, টার্মিনাল, বাজার ও জনবহুল এলাকাগুলোতেও নেই সেই চিরচেনা ভিড়। অধিকাংশ গণপরিবহনেও যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলক কম। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, আজিমপুর, সায়েদাবাদ, সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, পল্টন, গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও নেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি বা ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে থাকার চাপ। পথচারীদের ভিড়ও ছিল সীমিত। সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা থাকলেও ট্রাফিক পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে ট্রাফিক সদস্যদের। বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলও এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি।
বেসরকারি কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, সকালে মহাখালী অফিসের উদ্দেশে বের হয়েছি। বাসে যাত্রী থাকলেও স্বাভাবিক সময়ের মতো যানজট নেই, যাতায়াতে বেশ স্বস্তি পাচ্ছি। তিনি জানান, ঈদপরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে অফিসে যোগ দিতে হয়েছে, তাই সরাসরি কর্মস্থলে যাচ্ছেন।
আজিজুল হক নামে আরেক যাত্রী বলেন, গুলিস্তান থেকে গাড়িতে উঠেছি। যাত্রী কম থাকায় বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকছিল, তবে কোথাও যানজট ছিল না। রাস্তা ফাঁকা থাকায় যাত্রা সহজ হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে ঢাকামুখী মানুষের ভিড় চোখে পড়েছে। গতকাল সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসটার্মিনালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
বাসটার্মিনালগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীদের চাপ ছিল বেশি। সকালে ঢাকায় ফেরা মানুষের ভিড় থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা কিছুটা কমে আসে। মহাসড়কে যানজট কম থাকায় অনেক যাত্রী নির্বিঘেœ রাজধানীতে পৌঁছাতে পেরেছেন। তবে ফেরার পথেও বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, ঈদের আগে যেমন অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়েছে, ফেরার সময়ও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। বাড়তি ভাড়া না দিলে টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই ঢাকায় ফিরতে হয়েছে অনেককে। রেলপথেও একই চিত্র দেখা গেছে। কমলাপুর রেলস্টেশনে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বেশ কিছু ট্রেনে বাড়তি যাত্রীচাপ থাকলেও যাত্রীরা তুলনামূলক স্বস্তির সাথে রাজধানীতে ফিরেছেন। তবে রংপুর এক্সপ্রেস, পর্যটক এক্সপ্রেস ও নীলসাগর এক্সপ্রেস প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বে চলায় কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের ছুটি শেষে ধীরে ধীরে রাজধানীতে মানুষের ফেরা শুরু হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিন এই যাত্রীচাপ অব্যাহত থাকতে পারে। যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
নৌপথেও ঢাকায় ফেরা মানুষের চাপ বাড়ছে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা লঞ্চগুলো ভিড়তে শুরু করেছে। অনেক যাত্রী ভোগান্তি এড়াতে একদিন আগেই রওনা হয়েছেন। টার্মিনালগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, তবে এখনো বাড়ি ফেরার মতো অতিরিক্ত চাপ দেখা যায়নি। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সামনে আবার তিন দিনের সরকারি ছুটি থাকায় অনেকেই এখনো ঢাকায় ফেরেননি। ফলে আগামী কয়েক দিনে রাজধানীমুখী যাত্রীর চাপ আরো বাড়তে পারে। বিশেষ করে শুক্রবার থেকে এই চাপ বাড়বে এবং শনিবারের মধ্যে ঢাকা ধীরে ধীরে তার পুরনো ব্যস্ত রূপে ফিরতে শুরু করবে।



