নিজস্ব প্রতিবেদক
কোনো সরকারই বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা-নির্যাতন বন্ধ করতে পারছে না। ভারত শুধু সীমান্ত হত্যার সাথেই জড়িত নয়, তারা এ দেশের মানুষকে গুমের সাথেও জড়িত। বাংলাদেশের খুনি-অপরাধীদেরও আশ্রয় দিচ্ছে। সীমান্তে হত্যা-নির্যাতন বন্ধ না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত রক্তাক্ত সীমান্ত’ শীর্ষক আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। সমাবেশে ফেলানীসহ বাংলাদেশী নাগরিকদের ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক হত্যা, নির্যাতন, গুম, পুশইনের বিচারের দাবি করা হয়। একই সাথে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশে ভারতের আধিপত্যবাদ রুখে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় ১৪ বছর বয়সী বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী। তার লাশ অন্তত পাঁচ ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে ছিল।
সমাবেশে অধিকারের পরিচালক তাসকিন ফাহমিদা বলেন, ভারত শুধু সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যাই করছে না, তারা বাংলাদেশের খুনি-অপরাধীদেরও আশ্রয় দিচ্ছে। সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিক হত্যা বন্ধ করতে হবে। এসব হত্যার সাথে জড়িতদের বিচার করতে হবে।
ঠাকুরগাঁও সীমান্তের বাসিন্দা মহাদেব বলেন, তার ছেলে জয়ন্ত কাউকে না জানিয়ে নানা-নানীর সাথে দেখা করতে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাচ্ছিল। খবর পেয়ে তিনি ছেলেকে ফেরাতে সীমান্তে চলে যান। গিয়ে দেখেন, ছেলেকে গুলি করে ফেলে রেখেছে বিএসএফ। ছেলের লাশের কাছে গেলে তার পায়ে গুলি করা হয়। মহাদেব বলেন, ‘আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।
গুমের শিকার রহমত উল্লাহ বলেন, ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট সাভারের ধামরাই থেকে র্যাব তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। তার দুই হাত ও দুই চোখ বেঁধে ছোট্ট তিন হাত সাইজের একটি ঘরে ৯ মাস আটকে রাখা হয়েছিল। দেশে ৯ মাস গুম করে রাখার পর তাকে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ভারতের কারাগারে সাড়ে সাত মাস বন্দী থাকার পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। তিনি গুমের সাথে জড়িতদের বিচার দাবি করেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, জাতীয় গণফোরামের নেতা কামরুজ্জামান ফিরোজ, স্ব প্রাণ নামের সংগঠনের পরিচালক জারিফ রহমান, গুমের শিকার মো: বাতেনের স্ত্রী নাসরিন জাহান স্মৃতি ও ফিরোজ খানের স্ত্রী আমেনা আক্তার বৃষ্টি।



