আযাদ আলাউদ্দীন বরিশাল ব্যুরো
এলাকার অধিকাংশ মানুষ তাকে চেনেন না, নামও শোনেননি। মনোনয়নপত্র জমাদানের নির্দিষ্ট সময়ের ১২ মিনিট পর কাগজপত্র জমা দিয়ে তিনি নিজেকে ঘোষণা করলেন এলডিপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে। বহুল আলোচিত এই প্রার্থীর নাম মোকফার উদ্দিন চৌধুরী। তার বাড়ি বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচরা ইউনিয়নে।
প্রার্থীর এমন ঘোষণায় অবাক এলাকার অনেক মানুষ। তারা বলছেন, এমন অপরিচিত লোক ১১ দলের প্রার্থী হলে বিএনপি প্রার্থীর বিজয় শুধু ঘোষণার অপেক্ষা।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মাকসুদুর রহমান বলেন, এই আসনে বিগত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন ভোলা জেলার সাবেক আমির ও সুপরিচিত বক্তা মাওলানা মুফতি ফজলুল করিম। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারের অডিও হঠাৎ আলোচিত হয়ে ওঠেন এলডিপি প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরী। ওই অডিও সাক্ষাৎকারটিতেই তার প্রার্থী হওয়ার নানা কাহিনী উঠে এসেছে।
দৌলতখান উপজেলা জামায়াতের এক নেতা বলেন, ভোলা জেলার চারটি আসনের মধ্যে ভোলা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এই আসনে ১১ দলীয় জোটের শরিক এলডিপিকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলে তা হবে রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
স্থানীয় সূত্র ও মাঠপর্যায়ের হিসাব অনুযায়ী, ভোলা-২ আসনে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। এ দুই উপজেলায় জামায়াতের প্রায় ৫০ হাজার সহযোগী সদস্য, কর্মী ও রোকন রয়েছেন। সাধারণ ভোটারগণও ঝুঁকেছেন জামায়াতের দিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
এ দিকে এলডিপি প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভোলা জেলায় এলডিপির কোনো সাংগঠনিক কাঠামো নেই এবং মোকফার উদ্দিন দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় এলাকার মানুষের সাথে তার কোনো সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা পারিবারিক যোগাযোগ নেই। তার মনোনয়ন জমা দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিনে আমি বিকেল ৩টা থেকেই ভোলা ডিসি অফিসে ছিলাম। কাগজপত্রের ফটোকপি হাতে পেতে ১২ মিনিট দেরি হওয়ায় এই দেরিটা হয়েছে।



