নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা-১৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াত সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মো: আরিফুল ইসলাম আদীবের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সকালে রাজধানীর খিলক্ষেত থানার ডুমনি বাজার এলাকায় গণসংযোগকালে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের এই প্রার্থী। হামলার পরপরই দুপুরে উত্তরার বিএনএস সেন্টারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ডুমনি এলাকার নূরপাড়া আলিম মাদরাসা মাঠে পৌঁছামাত্রই স্থানীয় ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দিদার মোল্লার নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের দলে মোহাম্মদ সেলিম মিয়া, ইসরাফিল ও রানা আহমেদসহ বেশ কয়েকজন ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। হামলায় মাদরাসার অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন এবং জোটের কর্মী রিয়াজুল ও সাইফুল ইসলামসহ একাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা তাদের প্রকাশ্যে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন আরিফুল ইসলাম।
নির্বাচনী মাঠে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে, কিন্তু আমার সহযোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ছে। এখান থেকে লাশ গেলেও কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’ তিনি অভিযোগ করেন, এই আসনের বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের অনুসারীরা এর আগেও আব্দুল্লাহপুরে তাদের নির্বাচনী অফিসের ব্যানার ছিঁড়েছে এবং ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে। বিষয়টি গত রাতে এস এম জাহাঙ্গীরকে জানানো হলে তিনি সমাধানের আশ্বাস দিলেও পরদিন সকালেই আবার এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া উত্তরার আজমপুরে জোটের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিস্থলে বিএনপি পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন আরিফুল ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত দিদার মোল্লাকে মারমুখী ভূমিকায় দেখা গেছে বলে এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।



