২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে সরকারি বিভিন্ন বাহিনী ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলা রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ৬০০ থেকে ৭০০ জন আলেম-ওলামা-ছাত্র শহীদ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন হেফাজতের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
গতকাল সোমবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ওই ঘটনার পর হেফাজতের পক্ষ আমাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। এ কমিটি আওয়ামী লীগ আমলেই তদন্ত কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু তখন সরকারের বিভিন্ন বাহিনী আমাদের নানাভাবে বাধা দিতে থাকে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছিল। তিনি বলেন, ওই সময় শহীদের পরিবারগুলো মুখ খুলতে প্রচণ্ড ভয় পেত। তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়া হতো। এ কারণে কেউ নাম প্রকাশ করার সাহস পেত না। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত অন্তর্বর্র্তী সরকারের সময়ে দু-একজন শহীদের পরিবার মুখ খুলেছিল। কিন্তু শহীদের পরিবারগুলো ভবিষ্যতের চিন্তা করে এতটাই আতঙ্কিত যে নাম প্রকাশে এখনো ভয় পায়। আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ওই সময়ের ঘটনা নিয়ে আমরা কাজ করেছি। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর সে¦চ্ছাসেবী সংস্থা আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম ৪৫০ থেকে ৫০০ জন বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছিল। অথচ তারা ওই সময় মাসে সাধারণত ৫০-৬০টির বেশি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করত। এ ছাড়া ওই সময় জুরাইন কবরস্থানেও অনেক বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইল ময়লার ভাগাড়েও মিলেছিল ৩০টির বেশি লাশ। এ জন্য আমাদের অবজারভেশন হলো ২০১৩ সালের ৫-৬ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারা দেশে ৬০০ থেকে ৭০০ জনকে শহীদ করা হয়েছে।
তিনি জানান, শাপলা চত্ব¡রের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হেফাজতের পক্ষ থেকে আমি বাদি হয়ে একটি হত্যামামলা দায়ের করেছি। শেখ হাসিনাসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আগামী ৭ জুন মামলার পরবর্তী ধার্য দিন রয়েছে বলে তিনি জানান।
আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, সম্প্রতি হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাদের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ৫ মের ঘটনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে, ১. হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা আওয়ামী আমলের ৮০টিরও বেশি মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি, এসব মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা। ২. প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কওমি আলেমদের নিয়োগের দাবি, যার জন্য আগেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। ৩. শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলার দ্রুত রায় ঘোষণা করা এবং ৪. সমকামিতা ইস্যু ও হেফাজতের ১৩ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা। এসব বিষয় নিয়ে হেফাজতের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের একটি প্রতিনিধিদলের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণের জন্য কয়েকজনকে দায়িত্বও দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ দিকে ২০১৩ সালের ঘটনার স্মরণে হেফাজতের পক্ষ থেকে সারা দেশে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজনের আহ্বানের পর গতকাল বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া আজও বিভিন্ন স্থানে দোয়া ও আলোচনা সভার কর্মসূচি রয়েছে।



