হারুনুর রশিদ রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)
- কোথাও লাইসেন্স নেই, কোথাও ভুয়া চিকিৎসক
- প্রশিক্ষণহীন টেকনিশিয়ান দারা চলছে ইসিজি ও প্যাথলজি পরীক্ষা
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন এবং লাইসেন্স নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই রোগী দেখা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আবার কোথাও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন ছাড়া ব্যক্তিরা রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
বিশেষ করে উপজেলার হায়দরগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকায় এমন অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য বিভাগের তদারকি না থাকায় চিকিৎসাসেবার নামে এই বাণিজ্যিক প্রতারণা চলছে।
হায়দরগঞ্জ বাজারের বাংলাবাজার এলাকার ‘গ্রিন লাইন ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর শেয়ারহোল্ডার এ টি এম রাকিবুল ইসলাম বলেন, অনুমোদনের কাগজপত্র লক্ষ্মীপুরে জমা দেয়া হয়েছে। তবে এখনো কোনো অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি। কাগজপত্র হাতে এলে পুরোদমে কাজ শুরু করবেন। অথচ বাস্তবে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসক সহকারী জেসমিন আক্তার জানান, তিনি তিন মাস ধরে টিকিট লিখছেন এবং নিয়মিত চিকিৎসকেরা রোগী দেখছেন। প্যাথলজি টেকনিশিয়ান সুমনও এক মাস ধরে কর্মরত থাকলেও বৈধ কোনো ডকুমেন্টের বিষয়ে অবগত নন।
একই এলাকার ‘আমানউল্লাহ আনোয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড মেডিক্যাল কলেজ ফাউন্ডেশন’-এর প্রচারপত্রে ‘এস-১৪৭৬৬/২০২৬’ নম্বরের একটি রেজিস্ট্রেশন উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ, ডায়াগনস্টিক, ডিজিটাল এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি সেবার কথা প্রচার করা হচ্ছে। তবে ওই নিবন্ধন নম্বর কোনো কর্তৃপক্ষের কিংবা প্রতিষ্ঠানটির আদৌ বৈধ লাইসেন্স আছে কি না, তার সত্যতা মেলেনি।
এ ছাড়া হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনের ‘নগর ক্লিনিক’ এবং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের একটি বসতবাড়িতে অনুমোদনহীনভাবে চিকিৎসাকার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সেখানে সিনথিয়া দীনা নামের এক ব্যক্তি গাইনি ও শিশু রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানান। পাশাপাশি খাশেরহাট বাজারের মালতিয়া ফার্মেসি ও জিলানী ফার্মেসিসহ একাধিক ওষুধের দোকানে ডিপ্লোমা ইন মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) সনদ ব্যবহার করে নিজেদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয় দেয়ার এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে।
সরজমিনে দেখা যায়, হায়দরগঞ্জ ও খাশেরহাটের এসব চিকিৎসাকেন্দ্রে দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান ছাড়াই ইসিজি ও প্যাথলজি পরীক্ষা সম্পাদন করা হচ্ছে, যা রোগীদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এলাকাবাসী রায়পুর উপজেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্মেসিতে যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তারা লাইসেন্স, চিকিৎসকদের বিএমডিসি নিবন্ধন, কর্মচারীদের যোগ্যতা এবং পরীক্ষাগারের মান যাচাই করার জোর দাবি তোলেন।
যোগাযোগ করা হলে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদি হাসান কাউছার বলেন, ভুয়া চিকিৎসক ও অনিবন্ধিত ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে। লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা: বাহারুল আলম বলেন, রায়পুরে স্বাস্থ্য প্রশাসনের প্রতিনিধি না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে খুব দ্রুতই অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।



