ফিফা স্বাধীন সংস্থা নয়, রাজনৈতিক হাতিয়ার : ফিলিস্তিনি রাজনীতিবিদ

Printed Edition

আলজাজিরা

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আর কোনো নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশন নয়, বরং এটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থরক্ষাকারী একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিজ্ঞানী জাভিয়ের আবু ঈদ। ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের এই পিএইচডি গবেষক ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) সাবেক উপদেষ্টা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ফুটবল থেকে রাজনীতিকে দূরে রাখার যে মূল দায়িত্ব ফিফার ছিল, তা থেকে সংস্থাটি সম্পূর্ণ বিচ্যুত হয়েছে। তিনি বলেছেন, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ ফিফা ও তার বর্তমান নেতৃত্বকে বিশ্বজুড়ে তীব্র যাচাই-বাছাই ও নজিরবিহীন সমালোচনার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের পর একজন মার্কিন ফুটবল খেলোয়াড়ের ওপর আরোপিত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ উল্টে দেয়ার যে সিদ্ধান্ত ফিফা নিয়েছে, তা বিশ্বজুড়ে সাধারণ ফুটবলভক্তদের চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। এর পাশাপাশি, চলতি টুর্নামেন্টে মিসর ও কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালে দায়িত্বরত রেফারিরা অন্যায় ও রহস্যজনকভাবে মাঠের সিদ্ধান্তগুলোতে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিয়েছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র সন্দেহের উদ্রেক করেছে।

জাভিয়ের আবু ঈদ উল্লেখ করেন যে, ফিলিস্তিনের মানুষ দীর্ঘ বছর ধরে ফিফার এই চরম দুর্নীতিগ্রস্ত, পক্ষপাতমূলক ও অনৈতিক চরিত্রটি খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করে আসছে। ফিফার নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক সংবিধানে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকে কঠোরভাবে সম্মান জানানোর বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও, ফিলিস্তিনি ফুটবলের ক্ষেত্রে সংস্থাটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে সেই আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। অবৈধ বসতিতে বসবাসকারী ইসরাইলি ক্লাব ও দলগুলোকে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে অধিকৃত ও চুরি করা ফিলিস্তিনি জমিতে তাদের নিয়মিত লিগ ম্যাচ খেলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (আইএফএ) অবিলম্বে বরখাস্ত করার জন্য ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) বিগত বছরগুলোতে বারবার আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু ফিফা প্রতিবারই ফিলিস্তিনের সেই অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত ও আইনগত দাবিকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক আগ্রাসনে ফিলিস্তিনি ফুটবলারদের ব্যাপক হত্যাকাণ্ড এবং তাদের পঙ্গু করে দেয়ার বর্বর ঘটনাকে ফিফা কখনো ন্যূনতম নিন্দা পর্যন্ত জানায়নি। অতিসম্প্রতি ফিলিস্তিনি নারী জাতীয় ফুটবল দলের অন্যতম সদস্য র‌্যান্ড হালাওয়ানি এবং নাটালি আবু দায়েহসহ অন্যান্য আটককৃত ও কারাবন্দী ফুটবলারদের মুক্তির জন্যও আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোনো প্রকার দাবি তোলেনি এই ক্রীড়া সংস্থাটি।

ইসরাইলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি ফুটবল স্টেডিয়ামগুলো একের পর এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও ফিফা তার বিরুদ্ধে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদ লিপিবদ্ধ করেনি। এমনকি ফিলিস্তিনি জাতীয় ও স্থানীয় দলগুলোর আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ইসরাইল যে অন্যায় পারমিট বা ট্রাভেল ভিসা প্রত্যাখ্যানের নীতি বজায় রেখেছে, তা বন্ধ করতেও ফিফা কোনো কার্যকর চাপ সৃষ্টি করেনি। অন্য দিকে, ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ) কেবল বর্ণবাদ, বর্ণবৈষম্য ও অবৈধ দখলদারিত্বকে প্রশ্রয় ও স্বাভাবিকীকরণই করেনি, বরং গাজা বা লেবাননে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধে সরাসরি অংশ নেয়া ইসরাইলি ফুটবলারদের অভিনন্দন জানানোর অনৈতিক প্রক্রিয়াতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।