নয়া দিগন্ত ডেস্ক
হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৫৫ শিশু। সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৮০ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৮ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮৭৮ শিশু মারা গেছে।
এ ছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৬৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এ সময়ে হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৯২। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ৩২২ জন। এদের মধ্যে এক লাখ ১৫ হাজার ১৩৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে এরই মধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে হাম পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। একদিনে তিন শিশুর মৃত্যুর পর গতকাল আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ২৫ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ১৩২ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৭ জনে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩০৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী।
সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫৪ জনে। এর মধ্যে সিলেটে ২৮০ জন, হবিগঞ্জে ১০৯ জন, যাদের মধ্যে দুইজন রুবেলা, মৌলভীবাজারে ১১০ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৩৫ জন শনাক্ত হয়েছেন।
২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৩২ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩০৯ জন।
চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৫৭ জন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮১ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২৫ জন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে দুইজন এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১২ জন রয়েছেন।



