হারুন ইসলাম
ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসক শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর চলতি বছর যখন ছাত্ররা নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার ঘোষণা দেন। বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে চলে আসা ‘স্বজনপ্রীতি এবং দুই দলের আধিপত্য’ থেকে দেশকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে লড়াই করছে ছাত্র নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে দলটিকে বিশাল নেটওয়ার্ক ও ব্যাপক সম্পদশালী শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপি যেমন ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তেমনি জোট-মহাজোটের জটিল সমীকরণেও পা ফেলছে সাবধানে।
নতুন দল হিসেবে নিবন্ধন, প্রতীক বরাদ্দ পাওয়া এবং দেড় হাজারের বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি, সব মিলিয়ে এনসিপির প্রাথমিক যাত্রা চমকপ্রদ। তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। জনসমর্থনের জরিপ, জোট গঠনের ব্যর্থতা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, এই ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এনসিপি নানা কৌশল চালিয়ে যাচ্ছে।
৩০০ আসনে প্রার্থী : মনোনয়ন বাণিজ্য ভাঙার প্রত্যয় : বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় দলগুলোর প্রার্থী মানেই সাধারণত বিত্তবান ব্যবসায়ী, সাবেক আমলা কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। কিন্তু এনসিপি এই ‘প্রথাগত রাজনীতির ব্যাকরণ’ ভাঙতে চাইছে। দলটির নির্বাচনী প্রস্তুতির মূল ভিত্তি হলো ‘সৎ ও নতুন মুখ’।
এনসিপির কেন্দ্রীয় দফতর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দলটি। গত ৬ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের পরও আগ্রহীদের ভিড় ছিল। সব মিলিয়ে এক হাজার ৮৪ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় দেড় হাজার আবেদন এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের বিবেচনায় রয়েছে।
দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, তারা এমন প্রার্থী খুঁজছেন যারা জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন এবং যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ নেই। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এনসিপির তরুণ নেতারা জেলা-উপজেলায় ঘুরে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা টাকার কাছে মাথানত করছি না। ৫৩ বছরের রাজনীতির ইতিহাসে কোনো দল যা পারেনি, আমরা তাই করতে যাচ্ছি। আমাদের প্রার্থী তালিকায় একজনও চাঁদাবাজ বা দুর্নীতিবাজ থাকবেন না। আমরা সৎ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রার্থী দিচ্ছি, যা এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক হবে।’
রিকশাচালক থেকে কেমব্রিজ গবেষক : এনসিপির প্রার্থী তালিকায় বৈচিত্র্য আনার সচেতন প্রয়াস লক্ষণীয়। গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় এমন কিছু দৃশ্য দেখা গেছে, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুব কমই দেখা যায়। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সুজন যিনি একজন রিকশাচালক। তিনি অভ্যুত্থানের সময় শহীদ মিনারে আন্দোলনকারীদের প্রতি স্যালুট জানিয়ে আলোচনায় আসেন। ৩২ বছর বয়সী রিকশাচালক মোহাম্মদ সুজন খান তার সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘অনেকে ভাবতে পারেন রিকশাচালক সংসদে কী করবেন। কিন্তু আমাকে সুযোগ দিলে আমি দেখাব দেশ পরিবর্তনে সাধারণ মানুষ কী করতে পারে।’
অন্য দিকে, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন ডা: তাসনিম জারা। কেমব্রিজে তার সফল ক্যারিয়ার ছেড়ে তিনি এখন ঢাকার নির্বাচনী মাঠে। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি কেবল কয়েকটি ক্ষমতাবান পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। আমরা সাধারণ মানুষের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চাই।’
‘মিশন ঢাকা’: রাজধানীর দখল নিতে লড়াইয়ে ‘হেভিওয়েটরা’ : বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি প্রচলিত কথা আছে, ‘ঢাকা যার, দেশ তার’। ৩০০ আসনের মধ্যে ঢাকার ২০টি আসন সবসময়ই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হয়। এনসিপির নির্বাচনী ছক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তারা ঢাকাকে তাদের ‘স্ট্র্যাটেজিক হাব’ বা কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে বেছে নিয়েছে।
দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ১০ সদস্যের ‘পলিটিক্যাল কাউন্সিল’। এর মধ্যে ছয়জনই ঢাকা থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য, ঢাকার অন্তত পাঁচটি আসনে জয় নিশ্চিত করা এবং বাকিগুলোতে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা।
ঢাকার আসনগুলোতে এনসিপির সম্ভাব্য হেভিওয়েট প্রার্থীরা : ১. ঢাকা-১১ (রামপুরা, হাতিরঝিল, ভাটারা): এখান থেকে লড়বেন দলের আহ্বায়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। এটি তার নিজের এলাকা। প্রকাশ্যে বড় শোডাউন না করলেও তিনি নীরবে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ২. ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর, আদাবর) : এখানে লড়বেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। ৩. ঢাকা-৯ (সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা) : এই আসনে লড়বেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা: তাসনিম জারা।
৪. ঢাকা-১৮ (উত্তরা-বিমানবন্দর) : বৃহত্তর উত্তরা নিয়ে গঠিত এই আসনে লড়বেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ৫. ঢাকা-১২ (তেজগাঁও) : এখানে প্রার্থী হতে পারেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সারোয়ার নিভা।
৬. ঢাকা-৭ (পুরান ঢাকা): এখান থেকে লড়তে পারেন ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ আরিফ সোহেল। তবে দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক আসাদ বিন রনিও এখানে মনোনয়ন চেয়েছেন।
এনসিপি নেতারা মনে করছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশাল ছাত্রসমাজ এবং তরুণ ভোটাররা ঢাকার ব্যালট বিপ্লবে বড় ভূমিকা রাখবে।
ঢাকার বাইরে আঞ্চলিক দূর্গ গড়ার চেষ্টা : ঢাকার বাইরেও এনসিপি তাদের শীর্ষ নেতাদের দিয়ে আঞ্চলিক প্রভাব বলয় তৈরির চেষ্টা করছে। দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন লড়বেন রংপুর-৪ আসন থেকে। রংপুরে ছাত্র আন্দোলনের প্রভাবকে কাজে লাগাতে চায় দলটি। উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রস্তুতি নিচ্ছেন পঞ্চগড়-১ আসনের জন্য। তিনি নিয়মিত এলাকায় যাতায়াত করছেন এবং সভা-সমাবেশ করছেন। অন্য দিকে, দলের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হাসনাত আব্দুল্লাহ লড়বেন কুমিল্লা-৪ আসন থেকে। যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬ আসনে গণসংযোগ করছেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ তার নির্বাচনী প্রচারণায় এক ভিন্ন কৌশল নিয়েছেন। তিনি ভোটারদের সোজাসাপ্টা বলে দিচ্ছেন, ‘আমার পকেটে কোনো টাকা নেই। নেতার কাজ টাকা দেয়া নয়, বরং জনগণের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।’ এই ‘টাকা ছাড়া রাজনীতি’র স্লোগান তরুণদের মধ্যে সাড়া ফেললেও প্রবীণ ভোটারদের কতটুকু আকৃষ্ট করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
জোটের রাজনীতি : অনিশ্চয়তা ও আপস-প্রস্তাব : নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, জোট গঠন নিয়ে এনসিপির দোটানা তত স্পষ্ট হচ্ছে। এনসিপি কি এককভাবে লড়বে, নাকি কোনো জোটে যাবে-এই প্রশ্নের উত্তর এখনো মিলছে না। গত ২৭ নভেম্বর এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাথে এনসিপির একটি নির্বাচনী জোট গঠনের কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা ভণ্ডুল হয়ে যায়। সূত্রমতে, আপ বাংলাদেশ (সাবেক ছাত্রশিবির নেতাদের একটি অংশ) নামের একটি দলকে জোটে রাখা নিয়ে এনসিপির তীব্র আপত্তি ছিল। এ ছাড়া গণ-অধিকার পরিষদের সাথে নেতৃত্বের প্রশ্নেও মতভেদ তৈরি হয়।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘সেই বৈঠকের পর আর কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতিই বেশি রাখছি।’
তবে রাজনীতির অন্দরমহলের খবর হলো, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী উভয় দলই এনসিপিকে তাদের জোটে পেতে আগ্রহী। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তরুণদের সংসদে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্য দিকে জামায়াতও এনসিপির সাথে যোগাযোগ রাখছে।
এনসিপির একটি অংশ মনে করে, বড় দলের সাথে জোট করলে আসন নিশ্চিত হতে পারে। কিন্তু দলের তাত্ত্বিক ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, আওয়ামী লীগ বা বিএনপির বলয়ের বাইরে ‘তৃতীয় শক্তি’ হিসেবে দাঁড়াতে না পারলে এনসিপির ‘বিপ্লবী’ ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক আলতাফ পারভেজ বলেন, ‘জোট করলে জনগণ তাদের আর স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে দেখবে না।’
দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘যারা জুলাই সনদের মৌলিক সংস্কার এবং শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসনের গ্যারান্টি দেবে, তাদের সাথেই কেবল জোট হতে পারে। নতুবা আমরা একাই লড়ব।’
জরিপের ফলাফল ও বাস্তবতা : মাঠের রাজনীতিতে এনসিপি যখন আদর্শের কথা বলছে, তখন পরিসংখ্যান তাদের সামনে কঠিন সত্য তুলে ধরছে। ইউএস-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, জনসমর্থনে এনসিপি এখনো অনেক পিছিয়ে। জরিপ অনুযায়ী : বিএনপি: ৩০% সমর্থন নিয়ে শীর্ষে। জামায়াতে ইসলামী: ২৬% সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয়। এনসিপি : মাত্র ৬% সমর্থন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এনসিপি সমর্থিত প্যানেল একটি আসনেও জয়ী হতে পারেনি। বিপ্লবের সুতিকাগার খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই এমন ফলাফল দলটির নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও কূটনৈতিক তৎপরতা : একটি নতুন দলের জন্য ৩০০ আসনে নির্বাচন করা বিশাল এক অর্থনৈতিক যজ্ঞ। এনসিপি এখানেও সঙ্কটে। দলের কর্মী-সদস্যদের বেতন, ছোট অনুদান আর ক্রাউডফান্ডিংয়ের (গণতহবিল) ওপর ভর করে চলছে তাদের কার্যক্রম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দলকে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি বড় বাধা অর্থ। দলের কর্মী-সদস্যদের পূর্ণকালীন চাকরি থেকে পাওয়া বেতন, ছোট অনুদান এবং গণতহবিল সংগ্রহের ওপর নির্ভর করে তাদের প্রচারণা চালু রাখছে দলটি।
এর মধ্যে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিতে হচ্ছে তাদের। নিজেদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির জারি থাকবে বলে জানিয়েছে তারা। নির্বাচনী সরোবর পার হতে এনসিপি আন্তর্জাতিক মহলেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে।
দলের আন্তর্জাতিক মিশনবিষয়ক উপকমিটির সেক্রেটারি আলাউদ্দিন মোহাম্মদ জানান, তারা কূটনীতিকদের সাথে নিয়মিত বৈঠক করছেন। নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করা এবং কমিশনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি নিয়ে বিদেশী মিশনের সাথে তাদের আলোচনা চলছে।
আগামী দিনের পথরেখা : এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে তারা তাদের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবেন। প্রথম ধাপে ১০০ আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে। দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের ৩০০ আসনেই প্রার্থী প্রস্তুত। যদি জোট হয়, তখন কিছু আসনে সমন্বয় করা হবে। তবে লাভ না হলে বা আদর্শিক মিল না হলে আমরা একাই লড়ব।’
বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির জন্য এবারের নির্বাচন একটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তারা তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছে সত্য, কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে আবেগ দিয়ে সবসময় বৈতরণী পার হওয়া যায় না। একদিকে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অর্থের অভাব, অন্য দিকে বিএনপি-জামায়াতের মতো সুসংগঠিত দলের সাথে প্রতিযোগিতা, সব মিলিয়ে এনসিপির সামনে পথটা মোটেই মসৃণ নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এনসিপির উত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু তারা যদি এখনই জোটের লোভে পড়ে নিজেদের স্বকীয়তা হারায়, তবে তারা আরেকটি গতানুগতিক দলে পরিণত হবে। আর যদি তারা এই নির্বাচনে হেরেও যায় কিন্তু নিজেদের নীতিতে অটল থাকে, তবে ভবিষ্যতে তারা বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন বলেন, আমরা ৩০০ আসনেই একক নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়ে আগাচ্ছি। প্রাথমিকভাবে একটি প্রার্থী তালিকা দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যোগাযোগ থাকেই। এখন পর্যন্ত এককভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়ে আগাচ্ছি। ভবিষ্যতে যদি কখনো আলোচনায় ফলপ্রসূ হয়, অন্য কিছু হলেও সেটা সবাইকে জানানো হবে।
এখন দেখার বিষয়, রাজপথের বিপ্লবীরা ভোটের বাক্সে কতটা বিপ্লব ঘটাতে পারেন। রিকশাচালক আর কেমব্রিজ গবেষককে এক কাতারে দাঁড় করানো এনসিপি কি পারবে বাংলাদেশের রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে? উত্তর মিলবে আগামী ব্যালটেই।



