বিশেষ সংবাদদাতা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফেরাতে ভারত সরকারের কাছে চিঠি দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘যেহেতু তাঁরা এখন সাজাপ্রাপ্ত, সরকার মনে করে ভারতের বাড়তি দায়িত্ব রয়েছে তাঁদের প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করার। বাংলাদেশের মানুষের বিচার পাওয়ার আকাক্সক্ষা পূরণে ভারত যেন প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে, সে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে চিঠি দেয়া হচ্ছে।’
একই সাথে তিনি জানান, সাজাপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মাধ্যমে কোনো ধরনের ‘অ্যাপ্রোচ’ নেয়া যায় কি না, তা নিয়েও সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে।
ট্রাইব্যুনালের রায় : গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। একই মামলায় সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে ‘ঐতিহাসিক রায়’ : সংবাদ সম্মেলনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইন উপদেষ্টা। তিনি জানান, সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত করা ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত আপিল বিভাগের ১৪ বছর আগের রায় সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়েছে। আপিল ও রিভিউ নিষ্পত্তি করে সর্বোচ্চ আদালত রায়ে বলেছেন- নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত ও সক্রিয় করা হয়েছে, তবে তা ভবিষ্যৎ প্রয়োগযোগ্যতার ভিত্তিতে কার্যকর হবে।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘আজ একটি ঐতিহাসিক রায় হয়েছে। দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পাওয়া গিয়েছিল, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিয়েছিল। কিন্তু একটি বিতর্কিত রায়ের মাধ্যমে সেটি অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘সম্প্রতি পঞ্চদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষিত হয়েছে এবং আজ সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের দেয়া বিতর্কিত রায় বাতিল হয়েছে। ফলে এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আইনগতভাবে পুনরুজ্জীবিত।’
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এই ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে না। কারণ, সংবিধান অনুযায়ী সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। বর্তমানে সংসদের অস্তিত্ব নেই। ভবিষ্যতে যে সংসদ গঠিত হবে, সেটি ভেঙে গেলে তখনই তত্ত্বাবধায়ক সরকার কার্যকর হবে।
গণভোট আইন দ্রুত আনা হচ্ছে : আইন উপদেষ্টা আরো জানান,গণভোট আয়োজনের জন্য নতুন আইন প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করতে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী তিন-চার কার্যদিবসের মধ্যেই গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হবে।



