নিজস্ব প্রতিবেদক
এমপিওভুক্ত প্রায় দুই লাখ মাদরাসাশিক্ষক ও কর্মচারীর মে মাসের বেতন আটকে রাখা এবং মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি ধারাবাহিক বিমাতাসুলভ আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ দাবি জানান। তারা বলেন, সাধারণ স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ে বেতন পেলেও মাস শেষ হতে চললেও মাদরাসাশিক্ষকদের বেতন না হওয়াটা চরম বৈষম্য ও অবহেলার নজির। মাস শেষে নির্ধারিত সময়ে বেতন-ভাতা পাওয়া সাধারণ স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের ন্যায় মাদরাসাশিক্ষকদেরও একটি মৌলিক ও আইনগত অধিকার। মাদরাসাশিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা আটকে রাখার এই দ্বিমুখী আচরণ মূলত দেশের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার একটি সুগভীর ষড়যন্ত্র।
তারা আরো বলেন, প্রতি মাসে ৫১১ কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে ফান্ডে মাত্র ৮৬ কোটি টাকা থাকায় এই তীব্র সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন ‘অ্যানালগ সিস্টেমের’ অজুহাত দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে।
অথচ স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা ঠিকই ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন পাচ্ছেন। অ্যানালগ পদ্ধতির এই খোঁড়া অজুহাত দিয়ে মূলত সরকারের তীব্র অর্থসঙ্কট ও প্রশাসনিক চরম অব্যবস্থাপনাকেই আড়াল করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে, যা দেশবাসীর সামনে এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, হয়রানি এড়াতে দ্রুততম সময়ে সব মাদরাসাকে ডিজিটাল বা ইএফটি পদ্ধতির আওতায় আনতে হবে। অবিলম্বে জরুরি তহবিল গঠন করে মে মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় বিরাজমান সব বৈষম্য দূর করতে হবে।
একই সাথে দেশের সামগ্রিক মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারকে অবিলম্বে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, আধুনিক কারিকুলাম বাস্তবায়ন এবং কাঠামোগত বৈষম্য দূরীকরণে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।



