আমতলীর চাওড়া ও বাসুগী খালে কালভার্টের মুখ বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতা

Printed Edition
ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হওয়া কালভার্টের মুখ  : নয়া দিগন্ত
ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হওয়া কালভার্টের মুখ : নয়া দিগন্ত

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা

বরগুনার আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট এলাকার চাওড়া ও বাসুগী খাল দখল করে সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া চৌরাস্তার কালভার্টের এক মুখ বালুর বস্তা দিয়ে বন্ধ করে দেয়ায় পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পৌর এলাকার পাশাপাশি আশপাশের ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৮০ সালে শহর রক্ষায় চাওড়া খালের ওপর একটি ক্লোজার নির্মাণের পর নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে ২০১৫ সালে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ৪৩/১ পোল্ডারের আওতায় আমতলী বাঁধঘাট চৌরাস্তায় চাওড়া ও বাসুগী খালের সংযোগস্থলে একটি কালভার্ট নির্মাণ করে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই খাল ও এর দুই তীর দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা স্থাপনা নির্মাণ করেন।

গত ১১ বছরে খালের দুই পাড়জুড়ে সহস্রাধিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া মাছ বাজার, কাঁচাবাজার ও কসাইখানার বর্জ্য ফেলায় খাল ভরাট হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ স্থাপনা রক্ষার জন্য কালভার্টের এক মুখ বালুর বস্তা দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে গত ১০ দিনের টানা বৃষ্টিতেও ওই কালভার্ট দিয়ে পানি নিষ্কাশন হয়নি।আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, দ্রুত বালুর বস্তা অপসারণ করে খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি খালপাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান জানান, অবৈধ দখলদারদের ইতোমধ্যে নোটিশ দেয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে খাল খননের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।