জনগণ তাদের ’৭১ সালেই দেখেছে, নতুন করে দেখার কিছু নেই : তারেক রহমান

Printed Edition
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান : নয়া দিগন্ত
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, কেউ কেউ বলে অমুককে দেখো, তমুককে দেখো। কিন্তু জনগণ তাদের ১৯৭১ সালেই দেখেছে। নতুন করে তাদের দেখার কিছু নেই। তখন তারা কিভাবে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, মা-বোনদের সম্মান লুট করেছে-সবই মানুষ জানে।

গতকাল রোববার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাত দিনব্যাপী ‘বিএনপির দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এ কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। সভাপতিত্ব করছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

২০০১-২০০৬ সালে বিএনপির জোট সরকারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, একমাত্র বিএনপিই দুর্নীতি রোধ করতে পারে। কারণ আমরা অতীতে করেছি, ভবিষ্যতেও করতে পারব। বিএনপি সরকার বিভিন্ন বাহিনী তৈরি করে দেশে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়েছিল। পরে স্বৈরাচার সেই বাহিনী রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার করেছিল। সুতরাং দুর্নীতি-আইনশৃঙ্খলার লাগাম একমাত্র বিএনপিই টেনে ধরতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে, ’৯০ এর স্বৈরাচার আন্দোলনের পরে বিভিন্ন সঙ্কটের সময়ে যখন বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তখন বিএনপি অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছে, অবস্থার উন্নতি করেছে। এই মুহূর্তে আমরা আগামী দুই মাস পরে একটি নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। এই দেশটি গত ১৬ বছর যে স্বৈরাচারকে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে বিতাড়িত করেছে, সেই স্বৈরাচার দেশের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রকে কিভাবে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে, তা আমরা জীবনের পরতে পরতে অনুভব করতে পারি।

তিনি বলেন, জনগণই আমাদের সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। তাহলে কেন আমরা জনগণের সামনে দাঁড়াব না? আমাদের লক্ষ্য-দেশ ও জনগণকে নিয়ে। জনগণ যে সিদ্ধান্ত দেবে-আমরা তা মাথা পেতে নেব। আড়াই থেকে তিন বছর আগে, যখন স্বৈরাচার শক্ত হাতে মানুষের বাক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারের গলা টিপে রেখেছিল-সেই রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আমরা মানুষের সামনে ‘সংস্কার প্রস্তাব’ দিয়েছিলাম, যা ৩১ দফা হিসেবে পরিচিত।

তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে বারবার বলেছি- সামনের সময় ভালো নয়। সামনে অনেক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে দেশের জনগণ-এবং জনগণকে সাথে নিয়ে বিএনপি। এই ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার একমাত্র উপায়-গণতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র। জনগণের মতামত প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা সম্ভব।

দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দিতে হলে পরিকল্পনা থাকতে হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।