ক্রীড়া ডেস্ক
বেলজিয়ামের সামনে তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ। দলটির সামনে বাধা ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
বিশ্বকাপে শুরুটা করেছিল দুই ড্র দিয়ে বেলজিয়াম। মিশর ও ইরানের বিপক্ষে ড্রয়ের ধাক্কা সামলে ৫-১ গোলে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ সেরা হয়েই নকআউটে উঠেছিল দলটি। নকআউট পর্বে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা। দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করে ডি ব্রুইনা-লুকাকুর দেশটি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে চেনা ছন্দে ফিরে ৪-১ গোলে বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দেয় তারা। এই জয়ের ফলে বেড়েছে দলের আত্মবিশ্বাসও। ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ও বিশ্বাস ফিরে পাওয়ায় এবার স্পেনের বিপক্ষে জয়ে সেমিফাইনালে জায়গা পাওয়াকে অসম্ভব মনে করছেন না দলটির গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামার আগে গতকাল সেরা আটের প্রতিপক্ষ স্পেনকে সমীহ করলেও বেলজিয়াম দলকে নিয়ে আশাবাদী অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক।
কর্তোয়া বলেন, ‘দলের সবাই উপলব্ধি করছে, এটা (স্পেনের বিপক্ষে জেতা) সম্ভব। আমি মনে করি, আমাদের শক্তিশালী একটা স্কোয়াড আছে এবং সেটা স্পেনকে গোনায় ধরতে হবে। সব প্রতিযোগিতায়ই বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে, ইউরোপা লিগে, বিশ্বকাপে। আমি মনে করি, বিস্ময় উপহার দেয়া দলগুলোর একটি হতে পারি আমরা। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে দিতে পারাটা অবশ্যই বিশাল অঘটন হবে। আমাদের সেটা ঘটানোর আত্মবিশ্বাস আছে।’
এই ম্যাচে অবশ্য স্পেনের পক্ষে বাজি ধরার লোক বেশি, সেটি জানেন কর্তোয়াও। ৩৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষকও এগিয়ে রাখলেন ইয়ামাল-ওইয়ারসাবালদের। তবে নিজেদের প্রতি আস্থার কমতি নেই তার।
তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাদের প্রতি একটু হতাশ ছিল, কিন্তু আমরা সেটা ঠিক করে নিয়েছি। ভালো থেকে আরো ভালো হচ্ছে আমাদের পারফরম্যান্স। অবশ্যই স্পেন ফেবারিট, বলের নিয়ন্ত্রণে তারা চমৎকার এবং বল হারালে তারা দ্রুত চাপ দেয়। মূল কৌশলও এখানে- এ সময় তাদের রক্ষণের পেছনের ফাঁকা জায়গাটা কিভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটা জানা। আমি স্পেনে ১১ বছর আছি। অবশ্যই, এটা অনেক সময়। সেখানে জীবন কিছুটা ধীর গতির, আবহাওয়া ভালো, কিন্তু আমি বেলজিয়ামেরই রয়ে গেছি। যদিও স্পেন আমার দ্বিতীয় বাড়ি এবং সম্ভবত ক্যারিয়ার শেষে সেখানে থিতু হব। আমার ছেলে বাচ্চা স্বাভাবিকভাবেই বেলজিয়ানের চেয়ে বেশি স্প্যানিশ। কিন্তু দিন শেষে আগামীকালের (আজ) ম্যাচে আমি বেলজিয়ানই।’



