আঞ্চলিক শান্তিতে সহযোগিতায় সম্মত পাকিস্তান-চীন-আফগানিস্তান

বেইজিংয়ে ইসহাক দার, ওয়াং ই ও আমির খান মুত্তাকি বৈঠক

এএফপি
Printed Edition
ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি  : ইন্টারনেট
ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি : ইন্টারনেট

চীনের বেইজিংয়ে বুধবার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। বৈঠকে চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপিইসি) আফগানিস্তান পর্যন্ত সম্প্রসারণে সম্মত হন তারা।

চীনের আমন্ত্রণে ইসহাক দার সোমবার বেইজিং পৌঁছান তিন দিনের সরকারি সফরে। এই ত্রিপক্ষীয় ফোরামটি ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আগের বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয় বেইজিং ও কাবুলে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানায়, তারা পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পাকিস্তানের পাশে রয়েছে। এর আগে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে প্রাণঘাতী হামলার পর চার দিন ধরে চলা লড়াইয়ের অবসান ঘটায় পাকিস্তান ও ভারত।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আজ বেইজিংয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।

তারা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) জোরদার করা এবং সিপিইসি আফগানিস্তানে সম্প্রসারণের বিষয়ে সম্মত হন বলে জানানো হয়। ত্রয়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংযোগ জোরদারে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অভিহিত করেন। তারা সম্মত হন, ষষ্ঠ ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি সুবিধাজনক সময়ে কাবুলে অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর নানা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। তারা সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এর আগে মে মাসে আফগান তালেবান সরকার পাকিস্তান ও চীনের সাথে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গঠনমূলক সম্পর্ক’ বজায় রাখার আহ্বান জানায়। এ বক্তব্যটি আসে পাকিস্তান ও চীনের বিশেষ দূতদের সাথে আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানির সাক্ষাতের পর।

এ দিকে ১৫ মে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকির সাথে ফোনালাপ করেন, যা তালেবান সরকারের সাথে ভারতের প্রথম মন্ত্রী-পর্যায়ের সংযোগ। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমদ বাবর সিদ্দু চীনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ভূমিকার জন্য চীনের প্রশংসা করেছেন।

ইসলামাবাদে চীনা রাষ্ট্রদূত জিয়াং জাইডংয়ের সাথে বৈঠকে তিনি চীনের অবিচল সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক সময়ের সাথে আরো দৃঢ় হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এটি আরো গভীর হবে। বৈঠকে করপোরেট স্তরের যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

উভয়পক্ষ আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত ও একযোগে কাজের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। চীনা রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি পূর্ব সীমান্তে উত্তেজনার সময় পাকিস্তান বিমানবাহিনীর দক্ষতা ও প্রতিরক্ষা দায়বদ্ধতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও স্থানীয় উদ্ভাবন ব্যবহারে পিএএফের কৌশলগত দক্ষতা প্রশংসনীয়। তিনি প্রতিরক্ষা খাতে পাকিস্তানের স্বনির্ভরতা অর্জনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ইতোমধ্যেই ফলপ্রসূ হতে শুরু করেছে। চীন ভবিষ্যতেও পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা উন্নয়নে পূর্ণ প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে বলে আশ্বাস দেন।