টিকার মাধ্যমে বছরে ৯৪ হাজার শিশুর জীবন রক্ষা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে আগামী অক্টোবরে কিছু টিকার মজুদ ফুরিয়ে যাবে, যদি সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে টিকা কেনায় অর্থ ছাড় না করা হয়। এ ছাড়া টিকা কর্মসূচিতে রয়েছে বহুবিধ সমস্যা। টিকাদান কর্মসূচির সদর দফতরেই বিভিন্ন শ্রেণীর ৪৩ শতাংশ পদ খালি রয়েছে। এদিকে ৪৫ জেলায় টিকাদান কর্মী নিয়োগ এখনও সম্পন্ন হয়নি। অন্য দিকে জেলা পর্যায়ের কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ানের ৫৩ শতাংশ পদও খালি রয়েছে। বাজেট বরাদ্দে দেরি এবং ৫ম এইচএনপিএসপি বাতিল এবং তার পরিবর্তে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে, যা এখনো অনুমোদিত হয়নি। ফলে টিকা কেনা, টিকা পরিবহন এবং বণ্টনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
টিকাদান কর্মসূচির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভৌগোলিক অবস্থার ভিত্তিতে টিকাদান কেন্দ্র এবং কর্মীদের বণ্টনে সাম্যতা নেই। দুর্গম ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত টিকাদান কেন্দ্র ও কর্মী নেই, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় কার্যকর টিকাদান কৌশল এবং পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কার্যক্রম বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ইপিআই’র লোকজন বলছে, জনসংখ্যা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ না হওয়ায় টিকাদানের লক্ষ্য নির্ধারণে অসামঞ্জস্যতা এবং টিকা বরাদ্দে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পর্যবেক্ষণ ও প্রত্যক্ষ তদারকির অভাবের কারণে টিকার অপচয়, টিকা না পাওয়া শিশু এবং ঝরে পড়া শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে টিকাদানকারী ও জনগণের মধ্যে আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ সীমিত এবং শহরাঞ্চলেও এটি অনুপস্থিত।
টিকাদান কর্মসূচির লোকজন জানাচ্ছেন, তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি দেশের জনস্বাস্থ্যে এক বৈশ্বিক সাফল্য হিসেবে স্বীকৃত। এই জীবনরক্ষাকারী টিকাদানের মাধ্যমে মা ও শিশু স্বাস্থ্যের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন হয়েছে। ফলে মা ও শিশু মৃত্যুহার কমেছে এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলে টিকাদানের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে পাঁচ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুহার ৮১.৫ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে ।
এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে টিকা কার্যক্রমের সাফল্য, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং করণীয়’ শীর্ষক একটি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা: নিজাম উদ্দিন আহমেদ। তিনি বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচির বর্তমান প্রতিবন্ধকতা এবং উত্তরণের উপায়সমূহ নিয়ে উক্ত আলোচনা করেন। ডা: নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, টিকায় বিনিয়োগকৃত প্রতি এক ডলারে ২৫.৪ ডলার রিটার্ন আসে। ইউনিসেফের এ গবেষণায় প্রমাণ করে টিকা স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের অন্যতম সেরা বিনিয়োগ। বাংলাদেশ পোলিও নির্মূল, মাতৃ ও নবজাতক ধনুষ্টঙ্কার নির্মূল এবং হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। ৯৩ শতাংশ কিশোরী মেয়েদের এইচপিভি টিকা কভারেজ অর্জিত হয়েছে। এইচপিভি মেয়েদের সার্ভিক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। এ ছাড়া টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে সরকারের পক্ষে ইপিআই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুর জন্যে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৫ আওতায় টিসিভি টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করেছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্



