সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা

Printed Edition
পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলার আনোয়ারপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক : নয়া দিগন্ত
পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলার আনোয়ারপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

গত কয়েক দিনের টানা অতিবর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের সীমান্ত নদীগুলোর পানি হুহু করে বাড়ছে। এতে জেলার দোয়ারাবাজার ও তাহিরপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঢলের প্রবল স্রোতে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং তলিয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদীগুলোর পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে সাময়িক ও বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, টানা অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নদী-নালা ও খাল-বিলে হুহু করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে উপজেলার সীমান্তবর্তী খাসিয়ামারা, চেলা, কালিউরি, মৌলা ও চিলাই নদী দিয়ে বিপজ্জনক মাত্রায় ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, গতকাল রোববার সকাল থেকে উজানের ভারতের মেঘালয় থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি আকস্মিকভাবে নদীগুলো দিয়ে হাওরে প্রবেশ করছে। ঢলের তীব্র স্রোতে নদী তীরবর্তী বেশ কিছু এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া টানা বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা, ফলে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট। অতি বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এর ওপর ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, বৃষ্টিপাতের সাথে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক। সড়কটি প্লাবিত হওয়ায় তাহিরপুরে আসা পর্যটক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। গতকাল রোববার সকাল থেকে উপজেলার যাদুকাটা নদী দিয়ে প্রবল বেগে নেমে আসা ঢলের পানিতে সড়কটি নিমজ্জিত হয়। তবে ঝুঁকি নিয়েই এর ওপর দিয়ে কিছু যানবাহন চলাচল করছে।

জানা গেছে, যাদুকাটাসহ উপজেলার সব সীমান্ত নদীর পানি প্রবল বেগে ভাটির দিকে ধাবিত হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা জুবায়ের জয়নাল জানান, পাহাড়ি ঢল আসলেই এই সড়কটি ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যে পরিমাণে পানি বাড়ছে, তাতে নি¤œাঞ্চলের পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আনোয়ারপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি রতি মিয়া জানান, যাদুকাটা নদী দিয়ে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি রক্তি ও বৌলাই নদী হয়ে ভাটির দিকে নামে। পানির পরিমাণ অতিরিক্ত হওয়ায় এবং দ্রুত নিষ্কাশনের বিকল্প পথ না থাকায় সড়কটি ডুবে চলাচলে বিঘœ ঘটছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে পানি দ্রুত বাড়ছে। নদীগুলোর পানি বাড়লেও সব পয়েন্টে তা এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।