ভেনিজুয়েলার তেলে আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের

Printed Edition

সিএনএন

সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতা ও জ্বালানি তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

কিন্তু ভেনিজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এত আগ্রহ কেন? কী কারণে এই সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায় যুক্তরাষ্ট্র? এসব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে দুই দেশের জ্বালানি তেলের ধরনের ওপরে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষ সংস্থা ইউএস অ্যানার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেলের মজুদ আছে যুক্তরাষ্ট্রে; কিন্তু এই তেল হালকা, চলতি ভাষায় এ ধরনের অপরিশোধিত তেলকে বলা হয় ‘সুইট ক্রুড’। এ ধরনের তেল গ্যাসোলিন জাতীয় জ্বালানি তৈরির জন্য খুবই উপযোগী, তবে এর বেশি আর তেমন কোনো কাজে আসে না।

অন্য দিকে ভেনিজুয়েলার অপরিশোধিত তেল ভারী ও ঘন। এই তেল উত্তোলন ও পরিশোধনের ক্ষেত্রেও অন্যান্য তেলের তুলনায় বেশি যতœশীল হতে হয়। তবে এই ধরনের তেল পরিশোধনের মাধ্যমে উৎকৃষ্টমানের ডিজেল, অ্যাসফল্ট, কারখানায় ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানি, অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতিতে ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানিসহ আরো অনেক ধরনের জ্বলানিপণ্য তৈরি করা সম্ভব। তা ছাড়া ভেনিজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দেশ হওয়ায় ভৌগোলিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কাছাকাছি। ফলে সেখান থেকে তেল নিয়ে আসতে পরিবহন ব্যয়ও অনেক কম পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের।

ইআইএ-এর হিসেব অনুযায়ী, ভেনিজুয়েলার খনিগুলোতে মজুদ আছে কমপক্ষে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। বিশ্বের খনিগুলোতে মোট যত তেল মজুদ আছে, তার এক পঞ্চমাংশই আছে ভেনিজুয়েলায়।