কঙ্গোতে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ ১ বছর বাড়াল

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ গত শুক্রবার সর্বসম্মতিক্রমে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা মিশনের মোতায়েনের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর পক্ষে ভোট দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র রুয়ান্ডা ও এম২৩ বাহিনীকে আঞ্চলিক শান্তিচুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এএফপি

খবরে বলা হয়, ১১ হাজার ৫০০ সেনাসদস্য কর্তৃক গঠিত এই মনুস্কো মিশন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদন করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন সরকার এই সংস্থার মোতায়েন খরচ কমানোর চেষ্টা করেছে। এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে মনুস্কোর মেয়াদ ২০ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলো, যা জানুয়ারিতে গোমা এবং ফেব্রুয়ারিতে বুকাভুর প্রধান কঙ্গোলি শহরগুলো সরকারবিরোধী এম২৩ বাহিনীর দখলে চলে যায়।

ওয়াশিংটন বলেছে, এম২৩ গ্রুপটি রুয়ান্ডার সহায়তায় রয়েছে। গত ১০ ডিসেম্বর, এই গ্রুপটি উভিরা দখল করে নেয়। এই শহরে কঙ্গোর কয়েক লাখ মানুষ বসবাস করে আসছে। শহরটি দখল করার মাধ্যমে তারা বুরুন্ডির সাথে স্থলসীমা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয় এবং প্রতিবেশী দেশ থেকে কঙ্গোকে সামরিক সহায়তা পাওয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। শুক্রবারের সভায় মার্কিন প্রতিনিধি জেনিফার লোসেটা বলেন, ‘একটি কার্যকর শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার জন্য রুয়ান্ডা এবং এম২৩ প্রচেষ্টার কারণে মনুস্কো মিশনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য চলমান আলোচনা আবারো বিঘিœত হয়েছে।’

এই মাসের শুরুতে, কঙ্গো এবং রুয়ান্ডার নেতা ওয়াশিংটনে একটি শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে উভিরায় সহিংসতা ঘটায় ওই চুক্তি ভঙ্গের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বুধবার এম২৩ ঘোষণা করেছে যে, তারা শহরটি থেকে সরে যাওয়া শুরু করেছে এবং ‘মধ্যস্থতাকারীদের এবং অন্যান্য অংশীদারকে’ আহ্বান জানিয়েছে, যাতে উভিরাকে সহিংসতা এবং প্রতিশোধ থেকে রক্ষা করা যায়। স্থানীয় ও নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে যে, সৈন্যরা শহরের উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে এম২৩ পুলিশ এবং সাদা পোশাকধারী এজেন্টদের এখনো রাস্তায় এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা গেছে। মঙ্গলবার, দুই বুরুন্ডিয়ান কর্মকর্তা অনুমান করেছেন যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কমপক্ষে ৮৫ হাজার মানুষ ডিআরসি থেকে পালিয়ে বুরুন্ডিতে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসঙ্ঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বলেছেন যে, তারা মোট ৯০ হাজার নতুন আগমনের আশা করছেন এবং একটি ছবি প্রকাশ করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে কয়েক ডজন মানুষ গাছের নিচে ক্যাম্প করছে, তাদের থাকার জন্য কোনো অবকাঠামো নেই।