মনিরুজ্জামান সুমন দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)
বোরো মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডিজেল সঙ্কটে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সেচের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় অনেকেই সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। এতে ধানের সম্ভাব্য ফলন নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বোরো ধানে শীষ আসার সময় চলছে। এ সময় ধানগাছের গোড়ায় পানি ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ডিজেলের ঘাটতির কারণে অনেক কৃষক তাদের স্যালো মেশিন চালাতে পারছেন না। ফলে সেচকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে তেল বিক্রি বন্ধ থাকায় তাদের সরাসরি ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সেখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সীমিত পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
উপজেলার পারদামুড়হুদা গ্রামের কৃষক মো: সামাদ বলেন, তার স্যালো মেশিনের আওতায় নিজের দুই বিঘা ধান ও দুই বিঘা ভুট্টা এবং তার অন্য ভাইদের মিলে মোট মোট ১০ বিঘা জমিতে তার স্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচের আওতায় রয়েছে। বর্তমানে ধানগাছে শীষ ও ভুট্টায় মোচা আসার সময় চলছে। এ সময়ে প্রতিদিন অন্তত ছয় থেকে সাত লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয় আমার। কিন্তু ফিলিং স্টেশন থেকে ৩-৪ লিটারের বেশি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, পরিমাণ মতো সেচ দিতে না পারলে ফলন আশানুরূপ হবে না। ফলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
দশমী পাড়ার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ১০ বিঘা জমির আমবাগানে সেচ দিতে পারছি না। গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও ডিজেল পাইনি কোথাও।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও সরবরাহ সঙ্কটের কথা জানিয়েছেন। মেসার্স আলিফ অটো মোবাইল হাউজের মালিক আলিফ হাসান বলেন, যতক্ষণ তেল থাকে, ততক্ষণ গ্রাহকদের দিচ্ছি। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না।



