ক্রীড়া ডেস্ক
১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নরওয়ের হয়ে খেলেছিলেন আলফ-ইঙ্গে হলান্ড। ৩২ বছর পর সেই দেশেই আরেক বিশ্বকাপে তার ছেলে আর্লিং হলান্ড দেশের জয়ের নায়ক। দেশের হয়ে দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ না খেললেও মূল মঞ্চে এসে সেই খরা দারুণভাবেই না কাটালেন ম্যানচেস্টার সিটির এই ফরোয়ার্ড। তার কাঁধে চড়ে, ইরাককে সহজেই ৪-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে ফেরার উপলক্ষ রাঙাল নরওয়ে।
ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচে হলান্ডের পাশাপাশি গোল পেয়েছেন লিও ওস্টিগার্ড। আর ইরাকের হয়ে একটি গোল শোধ করার পর একটি আত্মঘাতীও করেছেন আইমান হোসাইন। ম্যাচে অবশ্য বল দখলের লড়াইয়ে আধিপত্য করে ইউরোপের দেশটি। ৬৩ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য নেয়া ১২ শটের ছয়টি লক্ষ্যে ছিল নরওয়ের। আর ১১ শটের একটি লক্ষ্যে রেখে একবারই জালের দেখা পায় ইরাক।
নরওয়েকে এর আগে সবশেষ বিশ্বকাপ দেখা গিয়েছিল ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স আসরে। বর্তমান নরওয়েজিয়ান ফুটবল একাদশের পাঁচজনেরই সেই সময় জন্মই হয়নি, তাদের একজন হলান্ডও। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দেশের মানুষকে ম্যাচের ২০ মিনিটেই গোল উপহার দিতে পারতেন হলান্ড। তবে ভালো পজিশনে বল পেয়েও হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। দলকে এগিয়ে নিতে খুব বেশি সময় অবশ্য নেননি ম্যানচেস্টার সিটি তারকা ফুটবলার। প্রথম ‘কুলিং ব্রেকের’ পর খেলা শুরুর প্রথম মিনিটেই এগিয়ে যায় নরওয়ে। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের গোলমুখে বাড়ানো বল কিছুটা সøাইডের মতো করে জালে পাঠান হলান্ড। আধুনিক ফুটবলের এই গোলমেশিনের জাতীয় দলের হয়ে গোল হলো ৫৬টি, ৫১ ম্যাচেই।
১০ মিনিট পরই অবশ্য দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে সমতা টানে ইরাক। বাঁ দিকের বাইলাইনে থেকে সতীর্থের কাটব্যাক ক্রস পেয়ে, সবার ওপরে লাফিয়ে জোরাল হেডে গোলটি করেন আইমান হোসাইন। এ নিয়ে জাতীয় দলের হয়ে এই স্ট্রাইকারের গোল হলো ৩৩টি। আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটা দেশটির দ্বিতীয় গোল। এর আগে একবারই ১৯৮৬ বিশ্বকাপে খেলেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। সেবার তিন ম্যাচের তিনটিতেই হারের পথে একবার বল জালে পাঠিয়েছিল দলটি।
নিজেদের ভুলে ৩ মিনিটের মধ্যে আবার পিছিয়ে পড়ে ইরাক। সতীর্থের দুর্বল ব্যাক পাস ক্লিয়ার করতে সময় নেন গোলরক্ষক জালাল হাসান। ছুটে গিয়ে বলে আলতো টোকা দেন হলান্ড এবং সেই মুহূর্তে গোলরক্ষক শট নিলেও সিটি ফরোয়ার্ডের পায়ে লেগে জালে জড়ায়। ওই ভুলের পর বিরতির আগের কয়েক মিনিটে একের পর এক আক্রমণ করে তারা। যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে আকরাম হাশিমের জোরাল ভলি ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় ইরাককে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবার খেলার গতি কমে যায়। তেমন উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছাড়াই দ্বিতীয় পানি পানের বিরতি চলে আসে। প্রথমার্ধের মতো এবারো বিরতি শেষে আবার খেলা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে গোল। মার্টিন ওডেগার্ডের কর্নারে লাফিয়ে হেডে বল জালে পাঠান লিও ওস্টিগার্ড।
কিছুক্ষণ পর হ্যাটট্রিক হয়ে যেতে পারত হলান্ডের। তবে তার কোনাকুনি শট আটকে দেন গোলরক্ষক। যার গোলে ব্যবধান কমিয়ে লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল ইরাক, সেই আইমান হোসাইনের নাম শেষ দিকে স্কোরলাইনে ওঠে আত্মঘাতী গোলদাতা হিসেবে। গোলরক্ষক বল পাঞ্চ ঠিকমতো করতে পারেননি, গোলমুখেই বল হোসাইনের গায়ে লেগে গোললাইনে পেরিয়ে যায়।



