সিইসির সাথে জামায়াতের বৈঠক

আচরণবিধি লঙ্ঘন করে একটি বড় দল কার্ড বিতরণ করছে

Printed Edition
নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের : নয়া দিগন্ত
নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা সমাবেশ ঘিরে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) যথাযথ পদক্ষেপ নিতে এবং সজাগ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে দলটি বলেছে, জাতির প্রত্যাশা এই নির্বাচন যাতে ফ্রি ফেয়ার এবং ক্রেডিবল হয়, যাতে কোনো ধরনের ত্রুটি না থাকে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিনের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকার উপস্থিত ছিলেন।

আচরণবিধি প্রসঙ্গ : আচরণবিধি ও ডিজিটাল প্রচার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, তফসিল ঘোষণার পর আমিরে জামায়াত ডা: শফিকুর রহমানের নির্দেশনায় দলটি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সারা দেশে তাদের পোস্টার-ব্যানার সরিয়ে নিয়েছে। তবে বিভিন্ন স্থানে অন্য পক্ষ থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। ম্যানুয়াল ব্যানারের পাশাপাশি বর্তমানে ভার্চুয়াল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। আমরা ইসিকে বলেছি এগুলো যেন অবিলম্বে অপসারণ করা হয় এবং একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হয়।

সিসি ক্যামেরা স্থাপন : নির্বাচন কমিশনকে জামায়াতের পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জোর দাবি জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণ যাতে নির্বাচনে মানসিক প্রশান্তিসহ ভোট দিতে আসে। কোন ধরনের ভয় তাদের মধ্যে না থাকে। ভয়শূন্য পরিবেশে যাতে আসে, যেখানে এসে নির্বাচনে ভোট দিলে আমি কোনো সন্ত্রাসের শিকার হবো না। আমাকে কোনো ধরনের কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না। এটি নিশ্চিত করার জন্য আমরা বলেছি, আপনারা সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওনারা বলেছেন, আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলাপ করেছি এবং এ ব্যাপারে তারা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমরা বলেছি আমরা এ বিষয়ে ফলোআপ নেব যাতে নিশ্চিত হয়।

অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার : সম্প্রতি জুলাইযোদ্ধা ও জনপ্রিয় যুবনেতা এবং খুলনায় এক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এসব ঘটনায় জনমনে মানসিক ট্রমা ও ভীতি তৈরি হয়েছে। আমরা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছি। এ ছাড়া জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের দেশব্যাপী নির্বাচনী সফরের সময় ভিভিআইপি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার দাবিও জানানো হয়।

বড় ধরনের কার্ড বিতরণ ও ওয়াদা : তিনি বলেন, বড় একটি দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের কার্ড আপনারা দেখেছেন হয়তো। আমরা সাংবাদিক বন্ধুদের মাধ্যমে জেনেছি ওনারা বিভিন্ন ধরনের ওয়াদা করছেন, আমরা এত কোটি কার্ড দেবো। একটি কার্ডে এত হাজার, এত লাখ টাকা পাবেন। এ ধরনের অনেকগুলো ওয়াদা করছেন, যেটা নির্বাচন বিধির সুনির্দিষ্ট খেলাফ। এ ব্যাপারে ওনাদেরকে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমরা বলেছি; অর্থাৎ যেখানে যতটুকু আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে আমরা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ওনারা ব্যবস্থা নেন।

প্রবাসী ভোটারদের সমস্যা : প্রায় সোয়া কোটি প্রবাসী বাংলাদেশীকে ভোটার করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াত। বর্তমান সময় পর্যন্ত মাত্র ছয় লাখের মতো প্রবাসী ভোটার হতে পেরেছেন। প্রতিনিধিদল এই প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে করার পরামর্শ দিয়েছে।

আগামী ৩ জানুয়ারি জামায়াতের নির্ধারিত জনসভা সম্পর্কে প্রতিনিধিদল জানায়, তারা আচরণবিধি মেনেই এই কর্মসূচি পালন করবেন। জনমনে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই জনসভা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।