স্ত্রীর অগ্নিমূর্তি চেহারার দিকে তাকিয়ে মি. রেজা মোটা করে ঢোঁক গিলে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিলেন অন্যদিকে। বাবার পেছনে গিয়ে নিজেকে লুকিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসছে ছোট্ট মেয়ে রিজু। কিন্তু মায়ের দৃষ্টির সামনে তার দৃষ্টি যেন অদৃশ্য হয়ে গেল নিমেষে। মিসেস রেজার হাতে থাকা ভাজি ভাজার খুন্তিটা নিয়েই এগিয়ে গেলেন মেয়ের দিকে। স্ত্রীকে বাধা দিয়ে মি. রেজা বলেন, থামো না, প্লিজ! ছোট্ট মেয়ে। ওরে ভয় দেখাচ্ছ ক্যান? ভয় দেখাচ্ছি? তুমি কী করছ? মেয়েটাকে বাড় দিয়ে মাথায় তুলে নিয়েছ! তুমি কি কাছে থাক সারাদিন? যত জ্বালা আমার। তুমি তো অফিসে গিয়েই হাফ ছেড়ে বেঁচে যাও। স্ত্রীর মেজাজ যে আর সহজে পড়বে না তা বুঝতে পারেন মি. রেজা। তিনি কথার মোড় ঘুরিয়ে সহজ গলায় জিজ্ঞেস করেন, রান্নাঘরে খুব গরম, তাই না? ইস! কী কষ্ট এ গরমে। আগামী মাসে স্যালারি হলে তোমাকে একটি টেবিল ফ্যান কিনে দেবো। তারপর তিনি একটু থেমে গিয়ে স্ত্রীর দিকে দৃষ্টি গাঢ় করে আবার বলেন, আর তোমার শরীরের জামাটাও বদলাতে হবে। কেমন যেন রঙ চটে গেছে জামাটার। স্বামীর কথা শুনে মিসেস রেজার অগ্নিবর্ণ মেজাজ যেন বরফের মতো গলে গেল ক্ষণিকেই। ঠোঁটের কোণে কিঞ্চিৎ হাসিকে বসিয়ে আবার রান্নাঘরের দিকে ফিরে যেতে যেতে তিনি বলেন, বিছানা ছেড়ে ওয়াশরুমে যাও। অফিসে আবার লেট হয়ে যায়! মাকে বের হতে দেখে রিজু এক লাফে নেমে গেল মেঝেতে। দরজাটা চাপিয়ে দিয়ে বাবার বুকে উঠে বসে সে। তাদের মাঝে আগের খুনসুটি যেন ফিরে এলো দ্বিগুণ হয়ে। মেয়ের চোখে-মুখে তাকিয়ে মি. রেজা মনে মনে ভাবেন, বাপ পাগল মেয়ে...।



