ভারতের সাথে সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের সাথে দ্বিপীয় সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার আন্তরিক। তবে এ সম্পর্ক অবশ্যই সমমর্যাদার ভিত্তিতে হতে হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। এ দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বের কার্যক্রম টেবিলে উপস্থাপিত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা, বাণিজ্য ও যোগাযোগের সংযোগপথ এবং এ অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁঁকি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক মাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা করে থাকে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ে বছরে দুইবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৬ সালের জুনে।

সীমান্ত হত্যা ও অবৈধ পুশইন প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তাঝুঁঁকি সৃষ্টিকারী এসব ঘটনা বিভিন্ন কূটনৈতিক বৈঠকে নিয়মিতভাবে তুলে ধরা হয়। প্রয়োজনীয় েেত্র ভারত সরকারের কাছে কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে জোরালো প্রতিবাদও জানানো হয়।

এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়েও বিজিবি ভারতের বিএসএফের সাথে নিয়মিত বৈঠক করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিবাদলিপি পাঠায় বলে জানান তিনি।

মাদকদ্রব্যের চোরাচালান প্রতিরোধেও দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় নিয়মিত আলোচনা ও বৈঠক হচ্ছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এবং ভারতের নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর মহাপরিচালক পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে আন্তরিক। তবে এ সম্পর্ক অবশ্যই সমমর্যাদার ভিত্তিতে হতে হবে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার বাংলাদেশী জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈধপথে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে সরকার আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, সার্ক ও বিমসটেকের কাঠামোর পাশাপাশি বিবিআইএনের মতো উপ-আঞ্চলিক উদ্যোগের আওতায় পণ্য ও সেবা চলাচলের বিভিন্ন বাধা কমানো এবং ভারতে বাংলাদেশের রফতানি বাড়ানোর জন্য সরকার কাজ করছে।

একই সাথে মানসম্মতকরণ, কাস্টমস সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তির মাধ্যমে সীমান্ত বাণিজ্য সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।