- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার
- মানবতাবিরোধী অপরাধ
২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির নেতা শাহরিয়ার কবিরসহ পাঁচ আসামিকে গতকাল সোমবার কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এ দিন ট্রাইব্যুনাল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রসিকিউশনকে আরো তিন সপ্তাহ সময় দিয়ে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তিনি মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং আরো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য তিন সপ্তাহ সময় প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।
এদিন সকাল ১০টার পর কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিজনভ্যানে করে গ্রেফতার হওয়া পাঁচ আসামিকে ট্রাইবুনালে আনে পুলিশ। শাহরিয়ার কবির ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম।
এর আগে গত ৩০ নভেম্বর এ মামলায় শাহরিয়ার কবিরকে সোমবার হাজিরের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ। তিনি এ মামলার তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করেন। পরে আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্যও একই দিন নির্ধারণ করা হয়। এক যুগ আগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিপুল সংখ্যক হতাহতের অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার বিচার চেয়ে গত বছরের ২৬ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন হেফাজত নেতা মাওলানা আজিজুল হক।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি এ অভিযোগ করেন। মাওলানা মামুনুল হক ও মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের পক্ষে করা এই অভিযোগে ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
অভিযুক্তরা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক এমপি হাজী সেলিম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, কমিটির সদস্য অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার, একাত্তর টিভির সাবেক সিইও মোজাম্মেল হক বাবু, সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ জোবায়ের, এবিনিউজ২৪ ডটকমের সম্পাদক সুভাস সিংহ রায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাইমুল ইসলাম খান, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও এনএসআইয়ের মো: মনজুর আহমেদ।



