পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির দ্বিতীয় দিনে ফাঁকা হয়ে পড়েছে চিরচেনা রাজধানী শহর ঢাকা। নেই আগের মতো যানজট কিংবা গাড়ির দীর্ঘ সারি। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটির দ্বিতীয় দিন ছিল গতকাল। তাই বন্ধ অফিস, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। ঈদের লম্বা ছুটিতে ঢাকা ছাড়ছে লাখো মানুষ। ফলে ঢাকা শহরে অভ্যন্তরীণ যানবাহন চলাচল কম, ফাঁকা রাস্তা-ঘাট। এতে করে চলাচলে কিছুটা হলেও ফিরেছে স্বস্তি।
আগের চেয়ে কমেছে গণপরিবহনের সংখ্যাও। অনেকে বলছেন, কিছু বাস অধিক লাভের আশায় দূরপাল্লার ভাড়া টানছে। আর অনেক ছোট যানবহন চালকরা ঈদ করতে গ্রামে চলে গেছে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল ও বাস কাউন্টার এলাকা গুলোতে কিছুটা বাড়তি চাপ রয়েছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
ঈদের ছুটির কারণে রাস্তায় বাস কম। বাসে অন্যান্য সময়ের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ গুণ বেশি ভাড়া নিলেও যানজট নেই, ভিড় না থাকায় স্বস্তিতে যেতে পারছেন যাত্রীরা তবে বাস না পেয়ে অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় বাসস্টান্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।
সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অন্য দিনের মতো শহরে বাসের সংখ্যা অনেক কম। যারা বের হয়েছেন অধিকাংশই ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা অথবা সিএনজিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। ছুটির কারণে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো প্রায় ফাঁকা। নেই যানজট, মানুষের যাতায়াতও কম। সড়কে রিকশা, অটোরিকশা ও সিএনজি আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য মানুষ এ বাহনগুলোকেই বেছে নিচ্ছেন। তবে যাত্রী কম থাকায় অনেক চালকই অলস সময় পার করছেন। আবার কোথাও কোথাও ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়াও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাস স্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালকে কেন্দ্র করে হালকা যানজট ছিল। ঢাকার প্রবেশমুখের সড়কগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। সদরঘাট-গুলিস্তান এলাকায় কিছুটা যানবহানের ভিড় ছিল। কমলাপুর-সায়েদাবাদ এলাকা যাত্রীদের কিছুটা চাপ থাকলেও তীব্র যানজট ছিল না। গাবতলীতেও এলাকায় যাত্রীদের কিছুটা ভিড় দেখা গেছে।
এদিকে গতকাল ছুটির দিনে ঢাকার বাতাসের মানের কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বায়ুদূষণের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। তৃতীয় নম্বরে রয়েছে কিরগিস্তানের বিশকেক। আর রাজধানী ঢাকা রয়েছে ১১ নম্বরে। সকাল ১০টা ৪১ মিনিটের দিকে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।
তাছাড়া রাজধানী ফাঁকা থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা রয়েছে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।



