গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণমূলক আইন সীমাবদ্ধ করে রেখেছে : জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদন

Printed Edition
রাজধানীতে গণমাধ্যম নিয়ে ইউনেস্কোর প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন মাহফুজ আলম : নয়া দিগন্ত
রাজধানীতে গণমাধ্যম নিয়ে ইউনেস্কোর প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন মাহফুজ আলম : নয়া দিগন্ত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণমূলক আইন ও রাজনৈতিক চাপ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসকে অব্যাহতভাবে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং জাতিসঙ্ঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (ইউনিসেফ) যৌথ সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুতকৃত একটি প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এতে সহায়তা দিয়েছে ঢাকায় সুইজারল্যান্ডের দূতাবাস। গতকাল রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত দৃকপাঠ ভবনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সমীক্ষা চালানো হয়। এই প্রতিবেদন আরো মুক্ত, স্বাধীন ও বাস্তবিক অর্থে বহুমতের গণমাধ্যমের পরিবেশ নিশ্চিত করতে অর্থপূর্ণ সংস্কারের পথনক্সা দেবে। দেশব্যাপী গণমাধ্যমকর্মী, নীতিনির্ধারক, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে কথা বলে এই সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রতিবন্ধকতাগুলোর পাশাপাশি ইতিবাচক ও টেকসই পরিবর্তনের পথনির্দেশিকা দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণমূলক আইন ও রাজনৈতিক চাপ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসকে অব্যাহতভাবে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জরুরিভিত্তিতে আইন ও নীতিগত সংস্কার করতে হবে। গণমাধ্যমকে লাইসেন্স দেয়া এবং সরকারি বিজ্ঞাপন দেয়ার ক্ষেত্রে সুষ্ঠু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। সাংবাদিকদের জন্য শক্তিশালী সুরক্ষা ও যথাযথ বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বাসযোগ্য স্ব-নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংবাদকক্ষে লিঙ্গসমতা বজায় রাখতে হবে। কমিউনিটি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের গণমাধ্যমকে আরো সমর্থন দিতে হবে। গণমাধ্যমের ওপর জনগণের আস্থা বাড়াতে সাংবাদিকদের পেশাগত মান উন্নয়নে আরো বিনিয়োগ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, গণমাধ্যমকে অবশ্যই নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা সমুন্নত রাখতে হবে, যাতে জনগণের আস্থা আবারো ভঙ্গ না হয় এবং প্রজন্ম অন্যায়ের শিকার না হয়।

ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দাইয়ারাতনি বলেন, একটি মুক্ত, স্বাধীন ও বহুমতের গণমাধ্যম যে কোনো প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের ভিত্তি। গণতন্ত্রের একটি স্তম্ভ হিসাবে গণমাধ্যমের কাঠামোগত সংস্কার, গণমাধ্যমকর্মীদের সমর্থন দেয়া এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইউনেস্কোর মতো অংশীদারদের সাথে কাজ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ‘মৌলিক স্তম্ভ’ হিসেবে উল্লেখ করেন ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভিজ।

সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক কনস্যুলার আলবার্টো জিওভেনিটি বলেন, মুক্ত, স্বাধীন ও বহুমতের গণমাধ্যম প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের ভিত্তি। আর এই সমীক্ষা যথাসময়ে তা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।