নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিচার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানে সম্পন্ন হয়েছে। এ রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। দেশবাসী ন্যায়বিচার পেয়েছে। এ রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এ রায়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ সম্পূর্ণ না হলেও, তারা কিছুটা স্বস্তি লাভ করেছে।
গতকাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার মামলার রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ (সাবেক এমপি) ও মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ট্রাইব্যুনালের এ রায় বাংলাদেশের বিচার ও রাজনৈতিক ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কারণ এ দেশে কোনো সরকার প্রধানের সর্বোচ্চ শাস্তির ঘটনা এটাই প্রথম। সরকার বা রাষ্ট্রের কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তিই যে আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তা এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সরকার ১৪ শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে এবং প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষকে গুরুতরভাবে আহত করেছে। এদের অনেকেই চিরদিনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছে এবং বহু ছাত্র-জনতা চোখ ও হাত-পা হারিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিল-আজ তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, গুম, আয়নাঘর ও ক্রসফায়ারের মাধ্যমে হত্যাসহ সব অপরাধের দ্রুত বিচারও দেশবাসীর প্রত্যাশা। ইনশাআল্লাহ, এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিচারকরা দীর্ঘ সময় ধরে যে রায় পড়েছেন, সেখানে ফুটে উঠেছে অপরাধীরা কী পরিমাণ নিষ্ঠুর, ঘৃণ্য, প্রতিহিংসামূলক অপরাধ করেছে। পত্রপত্রিকা, অডিও-ভিডিও, তাদের টেলিফোনিক কনভারসেশনের যে সমস্ত তথ্য হুবহু ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে, রায়ের মধ্যে কিন্তু কোট-আনকোট সেগুলো পড়ে শোনানো হয়েছে। এসব ঘটনা জানতে পেরে আমরা বিস্মিত হয়েছি, জাতি বিস্মিত হয়েছে।
হাসিনা সরকারের আমলে জামায়াত নেতাদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা ও সাজানো মামলা এবং দলীয় লোকদের মাধ্যমে সাজানো সাক্ষীর ভিত্তিতে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। সেই বিচার অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানের ছিল না; দেশ-বিদেশে সর্বত্রই তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আদালত থেকে সাক্ষী গুম করে এবং স্কাইপ কেলেঙ্কারি ও বিদেশ থেকে রায় লিখে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর যেসব নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, তাদের আমরা আর কখনো ফিরে পাব না-এটাই সবচেয়ে বেদনাদায়ক।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, জামায়াতের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম সুপ্রিম কোর্ট থেকে বেকসুর খালাস পাওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে-জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে আগের রায়গুলো ছিল অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অন্যায় ও প্রহসনমূলক।
তিনি অভিযোগ করেন, হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা শাটডাউন ঘোষণা করে সারা দেশে ককটেল-বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে জনগণের তীব্র প্রতিরোধের মুখে তারা কোথাও দাঁড়াতেই পারেনি। এ দেশে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
প্রতিবেশী দেশের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবেশী ভারত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে অপরাধীর পক্ষাবলম্বন করেছে এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী অবস্থান নিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি মেনে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে আইনের কাছে সোপর্দ করার জন্য আমরা ভারতের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।



