ক্রীড়া প্রতিবেদক
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া টি-২০ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ জয়ের ফলে সংক্ষিপ্ত ভার্সনে সেরা একটি বছর কাটিয়েছে টাইগাররা। আর এতে আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য দলকে পুরোপুরি তৈরি মনে করছেন অধিনায়ক লিটন দাস। আইরিশদের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে গত পরশু হারানোর পর একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন লিটন। বাংলাদেশ অধিনায়কের হাতে সিরিজ জয়ের ট্রফি, মুখে চওড়া হাসি। ক্যাপশনে লিখেন, ‘বাংলাদেশের টি-২০ অধিনায়ক হিসেবে পঞ্চম ট্রফি। অসাধারণ এই ছেলেদের নেতৃত্ব দিতে পেরে গর্বিত।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজ হারের পর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত ভার্সনের এই সিরিজটি ছিল বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতিও। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় পরাজয়ের পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের দু’টি জয়ে সিরিজ নিজেদের করার পর লিটন জানালেন, বিশ্বকাপের জন্য প্রায় প্রস্তত বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হয়ে টি-২০ ফরম্যাটে অধিনায়ক হিসেবে পাঁচটি ট্রফি জয় করেছেন লিটন। তার আগে পাঁচটি সিরিজ জয়ের স্বাদ পাননি টাইগারদের আর কোনো অধিনায়ক। ব্যক্তিগত এই অর্জনে মিশে আছে দলের ছুটে চলার প্রতিচ্ছবিও। চলতি বছর সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি জয়, সবচেয়ে বেশি রান, সবচেয়ে বেশি উইকেট, বেশি ছক্কা, সবকিছুই ধরা দিয়েছে এই ২০২৫ সালে। ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে চলতি বছর দলকে নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে বাংলাদেশ।
ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে লিটন বলেন, ‘আমি চাইছিলাম দল যেন চাপের পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ জিততে শেখে। প্রথম ম্যাচে আমরা চাপ কাটাতে পারিনি; কিন্তু লড়াই করে সিরিজ জিতেছি। অনেক ইতিবাচক দিক আছে। আমরা ভালো ফিল্ডিং ইউনিট নই; কিন্তু এই সিরিজে কিছু দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছে ফিল্ডাররা। অন্তত ফিল্ডিং বিভাগে উন্নতি দেখিয়েছি। এক বছরে এত টি-২০ খেলার পর আমার মনে হয় খেলোয়াড়রা আরো পরিপক্ব হয়েছে।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমরা প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। ঝুঁকিপূর্ণ কিছু পরিবর্তনও করেছি। যেমন আজ (গত পরশু) শেষ ওভারটি মোস্তাফিজকে দিয়ে করাইনি, সাইফউদ্দিনকে দিয়েছি। দুই ম্যাচ না খেলে থাকা একজন খেলোয়াড় চাপে কিভাবে বোলিং করে, তা দেখতে চেয়েছি। আমার মনে হয়, দলের প্রায় সব দিকেই আমরা কিছু না কিছু চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় বিশ্বকাপের জন্য এই দলটা প্রায় প্রস্তুত।’
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজিত হবে ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ। ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্ট শুরুর দিনই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। গ্রুপের অন্য তিন প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ইতালি ও নেপাল।
জাতীয় দলের খেলা না থাকলেও টি-২০ ক্রিকেটেই ব্যস্ত থাকবেন ক্রিকেটাররা। আগামী ২৬ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে বিপিএল। ফ্র্যাঞ্চাইজি এই টুর্নামেন্টেও ক্রিকেটাররা ছন্দ ধরে রাখবেন বলে আশা অধিনায়কের।
লিটন বলেন, ‘এখন একটা জিনিস থাকবে যে, ক্রিকেটাররা বিপিএল খেলবে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট। আমার মনে হয়, যে যেখানেই খেলুক, যেকোনো দলেই খেলুক, তারা সেরা ক্রিকেট খেলবে। আবার যখন আমরা জাতীয় দলে আসব, তখন ওই সেরা ক্রিকেটই আবার খেলার চেষ্টা করব।’



