লোহিত সাগরে হাউছি দাপটে হুমকিতে সৌদি তেল রফতানি

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০৫ ডলার ছাড়াল

Printed Edition

আলজাজিরা ও গালফ নিউজ

ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখার দখল নেয়ার পর লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করছে ইরানসমর্থিত হাউছি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার সামরিক সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, উপকূলীয় হানিশ দ্বীপপুঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল পরিবহনের প্রধান জলপথ ‘বাব আল-মানদেব’ প্রণালীর ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব জোরদার করেছে তারা। এতে সৌদি আরবের বিকল্প তেল রফতানি পথ অবরুদ্ধ হওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সাথে প্রণালীটি অবরুদ্ধ করার লক্ষ্যে ইরান নিজেদের বিশেষ বাহিনীর (আইআরজিসি) শত শত সেনা পাঠিয়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে।

হরমুজ প্রণালী আগে থেকেই অচল থাকায় সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগরের পথ ব্যবহার করছিল। হাউছিদের নিয়ন্ত্রিত ‘মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র’ জানিয়েছে, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্য দেশের বাণিজ্য তরীতে কোনো বাধা দেয়া হবে না। তবে রিয়াদকে লক্ষ্য করে কৌশলগত চাপ বাড়াতে লোহিত সাগরে অবস্থান জোরদার করছে হাউছিরা। জবাবে সরকারি বাহিনী এবং তাদের মিত্ররা লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় ‘ধুবাব’ ও ‘পেরিম’ দ্বীপে শক্ত অবস্থান নিচ্ছে।

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ এখন এক ‘নতুন ও মারাত্মক ধাপে’ প্রবেশ করেছে। অন্য দিকে মার্কিন প্রতিনিধি জেনিফার নিডহার্ট এই আগ্রাসনের পেছনে ইরানের সরাসরি মদদকে দায়ী করেছেন। আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো বলছে, আইআরজিসির দিকনির্দেশনায় এই ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হলেও তেহরান তা অস্বীকার করে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। ইয়েমেন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় পাকিস্তান ইতোমধ্যে ইরানের কাছে সৌদির কড়া বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

লোহিত সাগরে তীব্র লড়াইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ শতাংশ বেড়ে ১০৫ ডলার ছাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলারে ঠেকেছে।