সড়কে ‘অদৃশ্য টোলপ্লাজা’

বাংলাদেশের সড়ক এখন যেন অসংখ্য ক্ষুদ্র ‘বেসরকারি টোলপ্লাজা’-য় ভরা। জেলা ভেদে পদ্ধতি বদলায়, কিন্তু লক্ষ্য এক- চালকের পকেট। এই মানচিত্র প্রমাণ করে, সমস্যা বিচ্ছিন্ন নয়- জাতীয়। সমাধানও হতে হবে কেন্দ্রীয়, প্রযুক্তিনির্ভর ও কঠোর।

মনির হোসেন
Printed Edition
সড়কে ‘অদৃশ্য টোলপ্লাজা’
সড়কে ‘অদৃশ্য টোলপ্লাজা’
  • প্রতিদিন শত কোটির চাঁদাবাজি
  • ভাগ যাচ্ছে সিন্ডিকেট, প্রভাবশালী, কতিপয় আইনশৃঙ্খলা সদস্যের কাছে
  • পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, পণ্যের দাম চড়ছে
  • শৃঙ্খলা ফেরাতে চাই ডিজিটাল নজরদারি ও কঠোর অভিযান

ভোরবেলা রাজধানীর ব্যস্ত প্রবেশপথ। দূরপাল্লার বাসের সারি। ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লেগুনা-সবাই একে একে থামছে। কোনো টোলপ্লাজা নেই, সরকারি কাউন্টার নেই, রসিদ নেই। তবুও হাত বদল হচ্ছে টাকা। কয়েকজন দাঁড়িয়ে গাড়ি থামাচ্ছে, চালকের হাতে চাপিয়ে দিচ্ছে একটি টোকেন, তারপর নিচ্ছে নির্দিষ্ট অঙ্ক। কেউ প্রশ্ন করছে না, কেউ প্রতিবাদ করছে না। এই দৃশ্য আজকের বাংলাদেশের সড়কে নতুন নয়- এটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে।

রাজধানী ঢাকা থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী থেকে দক্ষিণ-পূর্বের কক্সবাজার-দেশের প্রায় প্রতিটি সড়ক-মহাসড়কেই চলছে এক অদৃশ্য ‘টোলব্যবস্থা’। তবে এটি রাষ্ট্রের নয়, নিয়ন্ত্রণ করছে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট।

মাঠপর্যায়ের সংগঠনগুলোর দাবি- প্রতিদিন শত কোটিরও বেশি টাকা আদায় হচ্ছে। বছরে তা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩,৬০০ কোটির ওপরে। অর্থনীতির ভাষায়, এটি এক বিশাল ‘শ্যাডো ইকোনমি’- যা চোখের সামনে থাকলেও হিসাবের বাইরে।

কিভাবে চলছে চাঁদার কারবার : চাঁদাবাজির পদ্ধতি এখন বেশ ‘স্মার্ট’। কোথাও রাস্তায় দাঁড়িয়ে নগদ আদায়, কোথাও সংগঠনের ব্যানারে মাসিক চুক্তি, আবার কোথাও গাড়ির কাচে টোকেন লাগিয়ে মাস শেষে টাকা সংগ্রহ। নাম দেয়া হয়- শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড, মালিক সমিতি চাঁদা, নিরাপত্তা ফি, লাইন মেইনটেন্যান্স ইত্যাদি।

বাসচালক রফিকুল বলেন, ‘চাদা না দিলে গাড়ি ছাড়বে না। ঝামেলা করলে মারধর করে। তাই চুপচাপ দিয়ে দেই।’

অনেক চালকের ভাষায়, এটি ‘নিরাপত্তা ফি’- দিলে ঝামেলা নেই, না দিলে বিপদ।

প্রকাশ্য লুটের চিত্র : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শনিরআখড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাস থামিয়ে ৫-৭ জনের একটি দল লাইন ধরে টাকা নিচ্ছে। পাশেই মোটরবাইক চালকরা দাঁড়িয়ে দেখছেন।

একজন বলেন, ‘আগে এক-দুইজন ছিল। এখন পুরো টিম। যেন জমিদারি।’

চট্টগ্রাম বন্দরের বিশ্বরোড এলাকায় ট্রাকচালকদের অভিযোগ- মাল নামানোর আগে, পরে-দুইবারই টাকা দিতে হয়। বিভিন্ন নামে আলাদা আলাদা কালেকশন।

না দিলে মারধর, কখনো মৃত্যু

চাঁদাবাজি এখন শুধু অর্থ নয়, সহিংসতার রূপও নিয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এক লেগুনাচালককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সামান্য টাকা নিয়ে বচসা থেকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

এমন ঘটনা একক নয়। বিভিন্ন এলাকায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, মারধর, গাড়ি ভাঙচুর এখন নিত্যদিনের বিষয়।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন- আইনের শাসন কোথায়?

কারা এই সিন্ডিকেট?

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চাঁদার টাকা এক জায়গায় থাকে না- ভাগ হয়ে যায় বিভিন্ন স্তরে। পায়- রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মী; শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের একটি অংশ; স্থানীয় দালালচক্র; অভিযোগ আছে- কতিপয় পুলিশ/হাইওয়ে সদস্য।

অতীতে যেসব গ্রুপ ক্ষমতার ছত্রছায়ায় ছিল, ক্ষমতা পাল্টালেও কাঠামো পাল্টায়নি। শুধু মুখ বদলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে এ ধরনের চাঁদাবাজি টিকতে পারে না।’

জেলাভিত্তিক চাঁদা মানচিত্র

কোন জেলায় কত টাকা, কোন পদ্ধতিতে- সড়কজুড়ে অদৃশ্য টোল সাম্রাজ্যের খতিয়ান পর্যালোচনায় দেখা যায়- দেশজুড়ে চাঁদাবাজির চিত্র একই রকম নয়। কোথাও বাস-স্ট্যান্ডকেন্দ্রিক, কোথাও বন্দরকেন্দ্রিক, কোথাও মহাসড়কের চেকপোস্টে। মাঠপর্যায়ের চালক, মালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়- প্রতিটি অঞ্চলে আলাদা ‘মডেল’ চালু রয়েছে। নিচে অঞ্চলভিত্তিক বাস্তবচিত্র তুলে ধরা হলো।

রাজধানী করিডর : ঢাকা (যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ-শনিরআখড়া-গাবতলী)

চিত্র : রাজধানীতে সবচেয়ে বড় ‘হাব’। প্রতিটি বাস, লেগুনা, ট্রাককে অন্তত ২-৩ জায়গায় থামানো হয়। আদায়ের ধরন: লাইন ফি; শ্রমিক কল্যাণ; টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণ ও টোকেন/স্টিকার।

আনুমানিক হার : সিটি বাস : ১,০০০-১,২০০ টাকা/দিন; লেগুনা/হিউম্যান হলার : ৭০০-৮০০ টাকা; ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান : ১,০০০-১,৫০০ টাকা। দৈনিক সংগ্রহ (আনুমানিক): ৩০-৪০ লাখ টাকার বেশি।

বৈশিষ্ট্য : প্রকাশ্য আদায়, দলবদ্ধ কালেক্টর, না দিলে হুমকি/মারধর।

বন্দর ও শিল্প করিডোর: চট্টগ্রাম

চিত্র : বন্দরকেন্দ্রিক ট্রাক-কার্গো চলাচল। প্রতিটি লোড-আনলোডে ‘ফি’। আদায়ের ধরন : ট্রাক মালিক সমিতি; লোডিং-আনলোডিং চার্জ; গেট পাস ও মাসিক স্টিকার।

আনুমানিক হার : ট্রাক : ১,৫০০-২,৫০০ টাকা/ট্রিপ; কাভার্ড ভ্যান: ২,০০০; দৈনিক সংগ্রহ- ৪০-৫০ লাখ টাকার বেশি। বৈশিষ্ট্য : একাধিক ধাপে টাকা- বন্দর ঢোকা, বের হওয়া, বিশ্বরোডে পুনরায়

উত্তরাঞ্চল করিডোর : রাজশাহী ও আশপাশ

চিত্র : আঞ্চলিক রুট, কৃষিপণ্য পরিবহন বেশী। আদায়ের ধরন: ইউনিয়ন/স্থানীয় শ্রমিক সংগঠন; বাজার ফি ও রুট কন্ট্রোল।

আনুমানিক হার : ট্রাক : ৮০০-১,০০০ টাকা। লোকাল বাস/হিউম্যান হলার : ৫০০-৭০০। দৈনিক সংগ্রহ: ১০-১৫ লাখ টাকার বেশি। বৈশিষ্ট্য: স্থানীয় প্রভাবশালী ‘দাদাগিরি’ নির্ভর, লিখিত রসিদ নেই

পর্যটন ও দক্ষিণ করিডোর: কক্সবাজার

চিত্র: পর্যটন মৌসুমে বাস ও মাইক্রোবাসের চাপ বেশি। আদায়ের ধরন: পার্কিং/টার্মিনাল চার্জ; ‘সিকিউরিটি’ ফি ও মৌসুমি চাঁদা।

আনুমানিক হার : দূরপাল্লার বাস : ২,০০০-২,২০০; মাইক্রোবাস: ১,০০০-১,৫০০। দৈনিক সংগ্রহ : ৮-১২ লাখ টাকা। বৈশিষ্ট্য : ঈদ/ছুটিতে আদায় দ্বিগুণ।

সারা দেশের আনুমানিক সারসংক্ষেপ অনুসারে- দৈনিক আদায় : বাস-৩৬ লাখ টাকা; রিকশা-৬০ কোটি; হিউম্যান হলার- ৪ কোটি; ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান ৩০ কোটি; অন্যান্য কয়েক কোটি টাকা। সব মিলিয়ে শত কোটিরও বেশি। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বিশ্লেষণ : মানচিত্র যা বলছে

এই মানচিত্রে তিনটি স্পষ্ট প্যাটার্ন দেখা যায়-১. যেখানে ট্রাফিক বেশি, সেখানে চাঁদা বেশি; ২. বন্দর/টার্মিনালকেন্দ্রিক এলাকায় সংগঠিত সিন্ডিকেট আর ৩. নগদ লেনদেনই মূলশক্তি। অর্থাৎ এটি ছিটেফোঁটা অপরাধ নয়-এটি কাঠামোগত অর্থনীতি।

বাংলাদেশের সড়ক এখন যেন অসংখ্য ক্ষুদ্র ‘বেসরকারি টোলপ্লাজা’-য় ভরা। জেলা ভেদে পদ্ধতি বদলায়, কিন্তু লক্ষ্য এক- চালকের পকেট। এই মানচিত্র প্রমাণ করে, সমস্যা বিচ্ছিন্ন নয়- জাতীয়। সমাধানও হতে হবে কেন্দ্রীয়, প্রযুক্তিনির্ভর ও কঠোর।

হিসাব যা চমকে দেয়

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী- ঢাকায় ৩,০০০ বা থেকে দৈনিক ৩৬ লাখ টাকা; ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে ৬০ কোটি টাকা; ৫০ হাজার হিউম্যান হলার থেকে ৪ কোটি টাকা; ৩ লাখ ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান থেকে ৩০ কোটি টাকা এবংসিএনজি ও অন্যান্য যান থেকে কয়েক কোটি- সব মিলিয়ে প্রতিদিন শত কোটিরও বেশি।

সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘এটা শুধু দুর্নীতি নয়, এটা জাতীয় অর্থনীতির ওপর ডাকাতি।’

শেষ পর্যন্ত ভোগে কে?

চাঁদা দিয়ে বাস মালিক ক্ষতিপূরণ তো নেবেই- ভাড়া বাড়িয়ে। ট্রাকচালক নেবে- পণ্যের পরিবহন খরচ বাড়িয়ে। ফলে চাল, ডাল, সবজি, সিমেন্ট- সব কিছুর দাম বাড়ে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি এক ধরনের ‘হিডেন ট্যাক্স’। সরকার নয়, সাধারণ মানুষ দিচ্ছে-সিন্ডিকেটকে।

কেন থামছে না?

কারণ তিনটি- ১. নগদ লেনদেন; ২. জবাবদিহির অভাব আর ৩. রাজনৈতিক ছত্রছায়া।

নগদ টাকা মানেই কোনো ট্রেইল নেই। মামলা নেই, প্রমাণ নেই। ফলে অপরাধ প্রমাণ কঠিন।

শৃঙ্খলা ফেরানোর ৩ পথ

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দ্রুত পরিবর্তন সম্ভব। ডিজিটাল পেমেন্ট: সড়কে নগদ লেনদেন বন্ধ। সব ফি/টোল অনলাইনে। মাঝপথে টাকা তোলার সুযোগ থাকবে না। সিসিটিভি ও অটোমেটেড জরিমানা। ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি। মানবিক দরকষাকষি কমবে। অবৈধ যানবাহন অপসারণ হবে। কাগজবিহীন গাড়ি কমলে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ও কমবে।

যদি এই অরাজকতা বন্ধ না হয় তাহলে- পরিবহন খরচ বাড়তেই থাকবে; বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়বে; জনঅসন্তোষ তীব্র হবে এবং আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘সড়ক যদি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে অর্থনীতি কখনো স্থিতিশীল হবে না।’

সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান: বন্ধ না করলে জনরোষ তৈরি হবে

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের পর বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, বর্তমান সরকার ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত। ফলে জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।

তার ভাষায়, ‘মানুষ এই সরকারকে ভোট দিয়েছে চাঁদাবাজি কমবে-এই আশায়। কিন্তু সরকার যদি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পৃষ্ঠপোষকতা করে, তাহলে একসময় জনরোষ তৈরি হবে। তখন পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে।’

তিনি মনে করেন, এখন যেভাবেই হোক সড়ক ও মহাসড়ক থেকে চাঁদাবাজি নির্মূল করা ছাড়া বিকল্প নেই।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরো বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দীর্ঘদিন উন্নত বিশ্বে ছিলেন। সেখানে সড়ক-মহাসড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি নেই। কারণ পুরো ব্যবস্থাই প্রযুক্তিনির্ভর। বাংলাদেশেও প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানো গেলে চাঁদাবাজির নৈরাজ্য অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে। এতে যাত্রীভোগান্তি কমবে, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে।”

চাঁদাবাজি কমাতে তিন দফা প্রস্তাব

তিনি তিনটি নির্দিষ্ট সমাধান প্রস্তাব করেন- প্রথমত, সড়ক-মহাসড়কে নগদ লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ করে ডিজিটাল পেমেন্ট চালু করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সিসিটিভি নজরদারি ও অটোমেটেড মামলার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে পুলিশি দরকষাকষি বা ‘স্পট কালেকশন’ বন্ধ হয়। তৃতীয়ত, অবৈধ ও কাগজবিহীন যানবাহন দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

তার অভিযোগ, ‘অনেক কাগজবিহীন গাড়িকে মামলার ভয় দেখিয়ে কিছু পুলিশ বা হাইওয়ে সদস্য টাকা আদায় করছেন। ক্যামেরাভিত্তিক মামলা চালু হলে সরকারই জরিমানার টাকা পাবে, ব্যক্তিগত আদায় বন্ধ হবে।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের মদদে যদি সংগঠনের নামে বেনামে এই চাঁদাবাজি চলতেই থাকে, তাহলে আবারো বড় ধরনের গণঅসন্তোষ তৈরি হতে পারে। সময় থাকতে সবাইকে সতর্ক হতে হবে।”

তিনি আরো দাবি করেন, অতীতেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কিছু প্রভাবশালী নেতা-এমপি সড়ক-মহাসড়ক থেকে সংগঠিতভাবে কোটি কোটি টাকা তুলতেন, যার ধারাবাহিকতা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

মন্ত্রীর বক্তব্যে বিতর্ক

এ দিকে রেল, সড়ক পরিবহন ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সম্প্রতি এক বক্তব্যে বলেন, ‘সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নিলে তা চাঁদা নয়, কিন্তু জোর করে আদায় করলে সেটি চাঁদা’

এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই বলছেন, মন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে এমন বক্তব্য পরিস্থিতিকে বৈধতা দেওয়ার মতো শোনাতে পারে।

হাইওয়ে পুলিশের অবস্থান: ‘জড়িত থাকলে ব্যবস্থা’

ঢাকা-চট্টগ্রাম বিভাগের হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ মঙ্গলবার রাতে নয়া দিগন্তকে বলেন, মহাসড়কে চলাচলকারী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের প্রায় ৮০ শতাংশের কাগজপত্রে অনিয়ম রয়েছে।

তার ভাষায়, ‘আমরা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি-বৈধ কাগজ ছাড়া কোনো গাড়ি হাইওয়েতে চলতে পারবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দুর্নীতি বা চাঁদাবাজির বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। নতুন আইজিপি যোগদানের পরই নির্দেশ দিয়েছেন-হাইওয়েতে কোনো ধরনের অবৈধ আদায় বরদাশত করা হবে না। সিসিটিভি ফুটেজ বা গোয়েন্দা তদন্তে কেউ জড়িত প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হলে থানায় অভিযোগ বা মামলা নেয়ার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন মূল প্রশ্নটি একটাই- ঘোষণা ও আশ্বাসের বাইরে বাস্তবে কত দ্রুত কঠোর অভিযান শুরু হয়। কারণ প্রতিদিনের এই ‘ছোট ছোট’ চাঁদাই মিলিয়ে তৈরি করছে হাজার কোটি টাকার অন্ধকার অর্থনীতি- যার বোঝা শেষ পর্যন্ত বইছে সাধারণ মানুষই।

রাষ্ট্রের জন্য লিটমাস টেস্ট

বাংলাদেশের সড়ক আজ এক অদৃশ্য অর্থনীতির দখলে। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা উঠছে, অথচ সরকারের কোষাগারে যাচ্ছে না এক টাকাও। প্রশ্ন এখন একটাই- রাষ্ট্র কি এই সিন্ডিকেট ভাঙবে, নাকি সড়ক থাকবে দখলদারদের হাতে?

সিদ্ধান্ত এখন সরকারের। কিন্তু মূল্য দি”ে জনগণ।